• দেশজুড়ে
  • মানিকগঞ্জে নদীতে স্নান করতে নেমে সলিল সমাধি: মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্তব্ধ দুই পরিবার, এলাকায় শোকের ছায়া

মানিকগঞ্জে নদীতে স্নান করতে নেমে সলিল সমাধি: মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্তব্ধ দুই পরিবার, এলাকায় শোকের ছায়া

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
মানিকগঞ্জে নদীতে স্নান করতে নেমে সলিল সমাধি: মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্তব্ধ দুই পরিবার, এলাকায় শোকের ছায়া

ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের বালিরটেক এলাকায় দুপুরে ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা; উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি দুই কিশোর-কিশোরীর।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় নদীতে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে দুই চাচাতো ভাই-বোন। বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের বালিরটেক বাজারের পুরাতন ট্রলার ঘাট সংলগ্ন নদীতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আনন্দময় এক দুপুর মুহূর্তের মধ্যেই বিষাদে পরিণত হয়, যখন দুই পরিবারের কোল খালি করে নদীর স্রোতে ভেসে যায় দুটি তাজা প্রাণ।

দুপুরের আনন্দ যখন বিষাদে পরিণত হলো স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বলড়া ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন। বুধবার দুপুরে তারা বালিরটেক বাজার এলাকায় নদীর ঘাটে স্নান করতে নামে। কিন্তু নদীর গভীরতা ও স্রোতের তীব্রতা আন্দাজ করতে না পেরে একপর্যায়ে দুজনেই গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।

তৎক্ষণাৎ নদীর পাড়ে থাকা লোকজন চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের বাসিন্দারা দ্রুত Rescue Operation বা উদ্ধার অভিযানে নামে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর স্থানীয়রা নদী থেকে অচৈতন্য অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

উদ্ধার তৎপরতা ও চিকিৎসকদের লড়াই নদী থেকে উদ্ধারের পর পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে স্থানীয়রা তাদের দ্রুত নিকটস্থ হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাদের বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও কিছুক্ষণ পরই তাদের ‘Brought Dead’ বা মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, দীর্ঘক্ষণ পানির নিচে থাকায় এবং ফুসফুসে অতিরিক্ত পানি প্রবেশ করায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশি ভাষ্য ও ঘটনার তদন্ত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মানিকগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদারকি করছে। তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে একজনকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অপরজন বেশ কিছুক্ষণ নিখোঁজ ছিল। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দ্বিতীয়জনকে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।”

তদন্তকারী এই কর্মকর্তা আরও জানান, এমন দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। প্রাথমিকভাবে একে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

শোকাতুর দুই গ্রাম ও এলাকায় শোকের ছায়া চাচাতো ভাই-বোনের এমন অকাল মৃত্যুতে সুলতানপুর গ্রাম ও বালিরটেক এলাকায় নেমে এসেছে শোকের কালো ছায়া। নিহতদের পরিবারের কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশ। গ্রামবাসীরা বলছেন, নিরাপদ স্নান বা সাঁতার না জানার কারণে নদীর ঘাটে এমন দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে, যা প্রতিরোধের জন্য Public Awareness বা জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে নদীর চরে গর্ত এবং গভীরতা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় স্নান করতে নামার সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দুটি পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হবার নয়।

Tags: local news bangladesh news manikganj police tragic incident emergency response water safety manikganj news drowning accident river tragedy cousins death