চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে রূপ নিয়েছে। দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গুরুতর আহত শহিদুল ইসলাম ঢালী (৫০) নামের এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের নারীসহ আরও অন্তত ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হতাহতের বিবরণ স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলার মুক্তারপুর মাঝপাড়া গ্রামে জমি নিয়ে শহিদুল ইসলাম ঢালীর সঙ্গে তার চাচাতো ভাই বারিক ঢালীর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে এই Land Dispute বা জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে পুনরায় কথা কাটাকাটি শুরু হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষের ঘটনায় শহিদুল ইসলাম ঢালী, শিল্পী খাতুন (৪০), আরবি খাতুন (৪৫) এবং জাহিদুল ইসলাম ঢালী গুরুতর আহত হন। গ্রামবাসী দ্রুত তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা চললেও শহিদুল ইসলামের অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ও গুরুতর জখমের কারণে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত Medical Care-এর জন্য রাতেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (Refer) পরামর্শ দেন। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকাকালীন বুধবার ভোররাতে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে মুক্তারপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।
আইনি পদক্ষেপ ও দুই অভিযুক্ত আটক ঘটনার পরপরই দামুড়হুদা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং অভিযান চালিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। আটককৃতরা হলেন—একই গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে বারিক ঢালী (৪২) ও জাহিদুল ইসলাম ঢালী (২৯)।
দামুড়হুদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবা উদ্দিন জানান, নিহত শহিদুলের ভাই শাহীন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওসি বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে (Primary Investigation) জমি সংক্রান্ত বিরোধের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত দুজনকে ইতিমধ্যেই Police Custody-তে নেওয়া হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
পরিবারের দাবি ও শোকাবহ পরিবেশ নিহতের ভাই ও মামলার বাদী শাহীন অভিযোগ করেছেন, বারিক ঢালী ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে শহিদুলকে হত্যার উদ্দেশ্যেই আক্রমণ চালিয়েছিল। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।