বক্স অফিসে তখন সাফল্যের জয়গান, চারদিকে প্রশংসার জোয়ার। নতুন অ্যাকশন থ্রিলার (Action Thriller) সিনেমা ‘ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জ’ দিয়ে দর্শকদের মনে নতুন করে জায়গা করে নিয়েছেন বলিউড সুপারস্টার রণবীর সিং। প্রথম কিস্তির মতো এই সিক্যুয়েলেও (Sequel) তার দুর্ধর্ষ অভিনয় দক্ষতা যখন সমালোচকদের কুর্নিশ আদায় করে নিচ্ছে, ঠিক তখনই তার ক্যারিয়ারের আকাশে ঘনিয়ে এল কালো মেঘ। বক্স অফিস সংগৃহীত সাফল্যের আনন্দ ম্লান করে দিয়ে এক বড়সড় আইনি ধাক্কার সম্মুখীন হলেন এই অভিনেতা।
সাফল্যের আলো বনাম আইনি ছায়া পর্দায় রণবীরের ‘ধুরন্ধর’ অবতার যখন দর্শকদের মুগ্ধ করছে, বাস্তবের আইনি লড়াই তাকে নিয়ে এল কঠিন এক মোড়ে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং সহ-অভিনেতাকে উপহাস করার গুরুতর অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছেন তিনি। গত বছরের একটি অনুষ্ঠানের সূত্র ধরে এই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ উঠেছে, একটি মঞ্চে অত্যন্ত জনপ্রিয় কন্নড় ছবি ‘কান্তারা’-র প্রধান অভিনেতা ঋষভ শেট্টির অভিনয় ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে অনুকরণ (Mimicry) করেছিলেন রণবীর।
বিতর্কের কেন্দ্রে ‘চামুণ্ডাদেবী’ ও ধর্মীয় বিশ্বাস কেবল অনুকরণেই সীমাবদ্ধ ছিল না বিষয়টি। অভিযোগ অনুযায়ী, রণবীর সিং ওই মঞ্চে ‘কান্তারা’ ছবিতে প্রদর্শিত অত্যন্ত পবিত্র ও শ্রদ্ধেয় ‘চামুণ্ডাদেবী’র চরিত্রটিও নকল করে দেখান। সেই পারফরম্যান্সের ভিডিও পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল (Viral Video) হয়ে গেলে নেটিজেনদের (Netizens) তীব্র রোষের মুখে পড়েন তিনি। সাধারণ দর্শকদের বড় একটি অংশের দাবি, এটি কেবল ঋষভ শেট্টিকে ব্যক্তিগত অপমান নয়, বরং কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধে চরম আঘাত। কর্ণাটকের সংস্কৃতি ও লোকজ বিশ্বাসের প্রতি এমন আচরণকে ‘অসংবেদনশীল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন অনেকেই।
আদালতের কড়া অবস্থান ও বিচারপতির পর্যবেক্ষণ এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কর্ণাটকের একটি আদালতে মামলা দায়ের করা হলে বিষয়টি বিচার বিভাগীয় পর্যায়ে গড়ায়। মামলার শুনানির সময় কর্ণাটক হাইকোর্টের বিচারপতি এম নাগপ্রসন্ন অত্যন্ত কঠোর এবং স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, একজন ব্যক্তি যতই প্রভাবশালী বা বড় তারকা হোন না কেন, কারও ধর্মীয় বিশ্বাসকে হেয় করার কোনো অধিকার তার নেই।
বিচারপতি তার পর্যবেক্ষণে আরও উল্লেখ করেন, সমাজের ওপর তারকাদের প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব (Public Figure) হিসেবে রণবীরের সামাজিক দায়বদ্ধতা অন্য সবার চেয়ে বেশি। জনসমক্ষে আচরণের ক্ষেত্রে তার আরও অনেক বেশি সংযত ও দূরদর্শী হওয়া উচিত ছিল বলে আদালত মনে করে।
নিঃশর্ত ক্ষমা ও হলফনামার নির্দেশ আইনি এই জটিলতা থেকে উত্তরণের জন্য আদালত রণবীর সিংকে একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে অভিনেতাকে আদালতে একটি ব্যক্তিগত হলফনামা (Affidavit) জমা দিতে হবে। সেখানে উল্লিখিত ঘটনার জন্য তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বক্স অফিসে ১০০ কোটির ক্লাবে দ্রুত প্রবেশ করা ‘ধুরন্ধর ২’-এর সাফল্যের এই সময়ে এমন আইনি জটিলতা রণবীর সিংয়ের ব্র্যান্ড ভ্যালু (Brand Value) এবং ভাবমূর্তিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। আপাতত বিটাউনের সব নজর এখন ১০ এপ্রিলের দিকে, যখন রণবীরকে তার আচরণের জন্য আইনি ব্যাখ্যা ও ক্ষমা পেশ করতে হবে।