বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও রাজকীয় কুচকাওয়াজের সাক্ষী হলো দেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের বিশেষ উদ্যোগে এই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।
রাষ্ট্রপতির সালাম গ্রহণ জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তিনি প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনরত তারেক রহমান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ প্যারেড গ্রাউন্ডে তিন বাহিনীর প্রধানগণ ছাড়াও মন্ত্রিসভার সদস্য, সরকারের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। সশস্ত্র বাহিনীর সুশৃঙ্খল কুচকাওয়াজ ও বিভিন্ন কসরত উপভোগ করেন হাজারো দর্শক।
দীর্ঘ বিরতির অবসান উল্লেখ্য, বিগত ২০০৮ সালের পর থেকে স্বাধীনতা দিবসে কোনো কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়নি। যদিও প্রতি বছর বিজয় দিবসে (১৬ ডিসেম্বর) এই অনুষ্ঠান নিয়মিতভাবে চলত, তবে স্বাধীনতা দিবসের রাষ্ট্রীয় সূচিতে এটি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। দীর্ঘ ১৮ বছর পর এই প্রথা আবারও শুরু হলো।
আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের তত্ত্বাবধানে এবারের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশন। রমজানের শুরু থেকেই প্যারেড স্কয়ারে এই আয়োজনের ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল।
দর্শনার্থীদের উপস্থিতি কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট দেখতে বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই প্যারেড স্কয়ারে জমায়েত হন হাজারো মানুষ। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সের মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকের হাতে ও মাথায় ছিল জাতীয় পতাকা, যা উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে দেয়।