আজ মহান স্বাধীনতা দিবস। সবুজ জমিনে রক্তিম সূর্যখচিত মানচিত্রের এই দেশটির স্বাধীনতার ৫৪ বছর পূর্ণ হলো। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘকালের পরাধীনতা, শোষণ ও বঞ্চনার শৃঙ্খল ভেঙে একাত্তরের এই দিনে বাঙালি জাতি নতুন সূর্যোদয়ের পথে পা বাড়িয়েছিল।
গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের স্মৃতিচারণ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন থেকেই শুরু হয় প্রতিরোধের লড়াই। ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং ৩ মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণার পর সারা দেশে রণদামামা বেজে ওঠে। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষের আত্মদান এবং অগণিত মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। আজকের এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রবাসী সরকারের নেতৃত্বদানকারী তাজউদ্দীন আহমদসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের।
গণতন্ত্র ও সুশাসনের সংকট স্বাধীনতার মূল চেতনা ছিল একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক সমাজ গঠন। যেখানে নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত থাকবে। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, গত পাঁচ দশকেও আমরা গণতন্ত্রের ভিতকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় শক্তিশালী করতে পারিনি। দীর্ঘ সময় ধরে দুর্নীতি ও দুঃশাসন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। বিশেষ করে বিগত বছরগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দোহাই দিয়ে দেশে এক ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছিল, যা মানুষের মৌলিক অধিকারকে খর্ব করেছে।
নতুন বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও প্রত্যাশা চব্বিশের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের অবসানের পর দেশের মানুষ এখন এক নতুন গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। এই নতুন আশাবাদকে ধারণ করেই এবারের স্বাধীনতা দিবস পালিত হচ্ছে।
উপসংহার একটি রাষ্ট্র তখনই সফল হয় যখন তার প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। ছাত্র-জনতার এই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে আমরা একটি সমৃদ্ধ ও ন্যায়বিচারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিই। অতীতকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাক, এবারের স্বাধীনতা দিবসে এটাই আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা।