বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে এজেন্ট ব্যাংকিং এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে যেখানে প্রথাগত ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানো কঠিন ছিল, সেখানে এজেন্ট ব্যাংকিং আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি কালবেলার সাথে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এজেন্ট ব্যাংকিং খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন এই খাতের অন্যতম পথিকৃৎ মুহাম্মদ ইসলাম শেখ।
শুরুর চ্যালেঞ্জ ও বর্তমান জনপ্রিয়তা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শুরুর দিনগুলো বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল বলে জানান ইসলাম শেখ। তিনি বলেন, "গ্রামের মানুষের কাছে এটি ছিল সম্পূর্ণ নতুন একটি ধারণা। আগে মানুষ চেকে স্বাক্ষর করে টাকা তুলতে অভ্যস্ত ছিল, সেখানে শুধু আঙুলের ছাপে লেনদেন করার বিষয়টি তাদের কাছে বিস্ময়কর ছিল। তবে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই দ্রুত সেবা পাওয়ার কারণে মানুষ খুব অল্প সময়েই এই ব্যবস্থার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে।"
নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য লেনদেন ব্যবস্থা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের অন্যতম শক্তি হলো এর নিরাপত্তা। ইসলাম শেখের মতে, স্বাক্ষর জালিয়াতির ভয় থাকলেও আঙুলের ছাপ জালিয়াতি করা অসম্ভব। এছাড়া বর্তমান সময়ে মোবাইল ওটিপি (OTP) যুক্ত হওয়ার ফলে গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া টাকা উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। এই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণেই সাধারণ গ্রাহকরা এখন এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।
উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থান এজেন্ট ব্যাংকিং কেবল সেবাই দিচ্ছে না, বরং দেশজুড়ে লাখ লাখ উদ্যোক্তা তৈরিতেও ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ইসলাম শেখ উল্লেখ করেন যে, এই পেশার মাধ্যমে মানুষের সেবা করার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার মধ্যে একটি আলাদা তৃপ্তি রয়েছে।
সুনির্দিষ্ট নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের পরিধি যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই খাতকে সুশৃঙ্খল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি। একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা থাকলে গ্রাহক ও এজেন্ট—উভয় পক্ষই আরও সুরক্ষিত থাকবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে।
উপসংহার এক সময় যে এজেন্ট ব্যাংকিংকে মানুষ 'মিনি ব্যাংক' হিসেবে চিনত, আজ তা বিশাল এক কর্মযজ্ঞে পরিণত হয়েছে। গ্রামীণ মানুষের সঞ্চয় প্রবণতা বাড়ানো এবং দ্রুত পেমেন্ট সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।