• রাজনীতি
  • জুলাই সনদের বরখেলাপ ও প্রশাসকের রাজত্ব: এপ্রিলে রাজপথে নামছে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট

জুলাই সনদের বরখেলাপ ও প্রশাসকের রাজত্ব: এপ্রিলে রাজপথে নামছে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
জুলাই সনদের বরখেলাপ ও প্রশাসকের রাজত্ব: এপ্রিলে রাজপথে নামছে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট

সংবিধান সংস্কারে টালবাহানা ও স্থানীয় সরকারে ‘দলীয়করণের’ অভিযোগে বিএনপি সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি; ঈদের পরই চূড়ান্ত আন্দোলনে রূপরেখা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা বিপুল ‘Mandate’ নিয়ে সরকার গঠনের পর মাস না পেরোতেই বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিএনপি। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের’ অঙ্গীকার ও নিজেদের ঘোষিত ‘৩১ দফা’ বাস্তবায়নে টালবাহানার অভিযোগে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে এবার আন্দোলনের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে ‘দলীয়করণ’ শুরু করার প্রতিবাদে আগামী এপ্রিল মাস থেকেই রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে এই জোট।

সংবিধান সংস্কারে ‘৩০ দিনের’ ডেডলাইন ও সরকারের নীরবতা জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল রাষ্ট্র সংস্কার। ১১ দলীয় জোটের অভিযোগ, নির্বাচনের পর ৩০ দিনের মধ্যে ‘Constitution Reform Council’ বা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং সংসদীয় অধিবেশন ডাকার যে বাধ্যবাধকতা ছিল, বর্তমান সরকার তা মানতে ব্যর্থ হয়েছে। জোটের নেতারা মনে করছেন, সংস্কার প্রক্রিয়ায় এই ধীরগতি মূলত রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করার একটি কৌশল।

স্থানীয় সরকারে ‘প্রশাসক রাজ’: নতুন রূপে পুরোনো সংস্কৃতি? সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়ে। জোটের নেতাদের দাবি, ভোট ছাড়াই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনের পথ বন্ধ করে ‘প্রশাসক’ নিয়োগ দিচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যেই ১১টি সিটি করপোরেশন এবং ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিস্ময়কর বিষয় হলো, গত নির্বাচনে যারা জনগণের ভোটে পরাজিত হয়েছেন, তাদেরই অনেককে বিভিন্ন জেলায় প্রশাসক হিসেবে বসানো হয়েছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম উদাহরণ দিয়ে বলেন, "গাইবান্ধা-৩ আসনে আমাদের প্রার্থীর কাছে বিপুল ভোটে হেরে যাওয়া বিএনপির জেলা সভাপতিকে জেলা পরিষদের প্রশাসক করা হয়েছে। এটি কেবল হাস্যকর নয়, বরং জনমতের প্রতি চরম অবজ্ঞা।"

নেতৃবৃন্দের ক্ষোভ ও ‘আওয়ামী লিগ্যাসি’র অভিযোগ সরকারের এই পদক্ষেপকে বিগত স্বৈরাচারী শাসনের ‘Legacy’ বা উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন ১১ দলীয় জোটের শরিকরা। এনসিপি (NCP) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে একে ‘গভীর রাজনৈতিক ভণ্ডামি’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে ক্ষমতায় এসে নিয়োগনির্ভর প্রশাসন চালানো জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্বপ্নের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।

আমার বাংলাদেশ (AB Party) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সতর্ক করে বলেছেন, "রাজনৈতিক নেতৃত্ব শিক্ষা নেবে ভেবেছিলাম, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ‘জুলাই সনদ’ বা জুলাইয়ের অঙ্গীকার থেকে পিছু হটা মানে জনগণের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ করা।"

এপ্রিলের আন্দোলন ও ২৮ মার্চের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট আর ঘরে বসে থাকতে রাজি নয়। জানা গেছে, আগামী ২৮ মার্চ জোটের শীর্ষ নেতারা এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসবেন। সেখান থেকেই এপ্রিলের আন্দোলনের চূড়ান্ত ‘Roadmap’ ঘোষণা করা হতে পারে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং হামিদুর রহমান আযাদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকার যদি অবিলম্বে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করে এবং সংস্কার পরিষদ গঠন না করে, তবে রাজপথের কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমেই দাবি আদায় করা হবে।

বিশ্লেষকদের অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি সরকারের জন্য এটি একটি অগ্নিপরীক্ষা। একদিকে নির্বাচনী অঙ্গীকার রক্ষা, অন্যদিকে মিত্রদের ক্ষোভ প্রশমন—এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারলে এপ্রিলে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। ‘Job Creation’ থেকে শুরু করে ‘Market Stability’—সরকার যখন নানা ফ্রন্টে কাজ করছে, তখন নিজ বলয়ের রাজনৈতিক বিরোধ মোকাবেলা করা তাদের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Tags: july charter bangladesh politics constitution reform local government election news ncp news ab party political protest bnp government jamaat islam