বসন্তের বিদায়লগ্নে সূর্যের প্রখরতা বাড়ার মধ্যেই স্বস্তির বার্তা নিয়ে এল আবহাওয়া অধিদপ্তর। দেশের তিন বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা জনজীবনে গুমোট গরমের অনুভূতি তৈরি করতে পারে।
রংপুরসহ তিন বিভাগে বৃষ্টির হাতছানি: কী বলছে আবহাওয়া অফিস? সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে প্রকাশিত নিয়মিত বুলেটিনে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি (Thunderstorms) হতে পারে। এই তিন বিভাগ ছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলের আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে, তবে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকারই সম্ভাবনা বেশি।
বাড়ছে তাপমাত্রা: তপ্ত হবে দিন ও রাত বৃষ্টির পূর্বাভাসের পাশাপাশি তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতির খবরও দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (Celsius) পর্যন্ত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে রাতের তাপমাত্রাও সামান্য বৃদ্ধির আভাস পাওয়া গেছে। রাজধানীতে বাতাসের গতিবেগ পশ্চিম বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকবে। আজ ভোরে ঢাকায় বায়ুর আর্দ্রতা (Humidity) ছিল ৮৮ শতাংশ, যা ভোরের দিকে মৃদু কুয়াশা বা জলীয় বাষ্পের আধিক্য নির্দেশ করে।
আগামী ৪৮ ও ৭২ ঘণ্টার বর্ধিত পূর্বাভাস আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের তিন দিনের বিশেষ পূর্বাভাসে জানিয়েছে:
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ): বৃষ্টির বিস্তৃতি কিছুটা বাড়তে পারে। রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ও দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাবে।
বুধবার (২৫ মার্চ): সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে দেশের মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলেও মেঘের আনাগোনা বাড়তে পারে। এ সময় তাপমাত্রা স্থিতিশীল বা সামান্য বাড়তে পারে।
লঘুচাপের অবস্থান ও সিনপটিক অবস্থা আবহাওয়ার সিনপটিক (Synoptic State) বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। অন্যদিকে, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপটি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে (Bay of Bengal) অবস্থান করছে। এই লঘুচাপগুলোর পারস্পরিক প্রভাবে বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের প্রবেশ ঘটছে, যা মূলত বৃষ্টির মেঘ বা ‘Thunderclouds’ তৈরিতে সাহায্য করছে।
পরিসংখ্যানের চোখে গত ২৪ ঘণ্টা গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের আবহাওয়া ছিল মিশ্র। সবথেকে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে (৮ মিলিমিটার)। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ তাপমাত্রার দাপট ছিল পর্যটন নগরী টেকনাফে, যেখানে পারদ চড়েছিল ৩৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুর ও শ্রীমঙ্গলে ১৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্চ মাসটি মূলত ঋতু পরিবর্তনের সময়। এ সময় হঠাৎ আকাশ কালো করে কালবৈশাখী বা বজ্রবৃষ্টির (Pre-monsoon Rain) প্রবণতা বেড়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষকে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ছাতা সাথে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।