• জাতীয়
  • জ্বালানি সংকট ও নিরাপত্তাহীনতা: যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে দেশের সব পেট্রোল পাম্প

জ্বালানি সংকট ও নিরাপত্তাহীনতা: যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে দেশের সব পেট্রোল পাম্প

জ্বালানি তেলের ঘাটতি ও পাম্পে হামলার আশঙ্কায় ধর্মঘটের ইঙ্গিত দিচ্ছে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
জ্বালানি সংকট ও নিরাপত্তাহীনতা: যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে দেশের সব পেট্রোল পাম্প

সারাদেশে তীব্র জ্বালানি সংকট এবং পাম্পগুলোতে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতার কারণে যেকোনো সময় পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তেলের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এবং পাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় মালিকরা চরম সংকটের মুখে পড়েছেন। দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে ব্যবসা বন্ধ রাখা ছাড়া বিকল্প পথ নেই বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত তেলের পরিমাণ চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। রোববার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে।

সংকটের মূলে জ্বালানি স্বল্পতা ও দীর্ঘ লাইন বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তেল নিতে আসা গ্রাহকদের, বিশেষ করে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ক্রেতাদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় বিরতিহীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পাম্পের কর্মীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। সব মিলিয়ে পেট্রোল পাম্পগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

নিরাপত্তাহীনতা ও মব কালচারের আতঙ্ক পেট্রোল পাম্প মালিকদের অভিযোগ, গভীর রাতে সংঘবদ্ধ হয়ে এসে ‘মব’ সৃষ্টি করে জোরপূর্বক তেল নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। ঠাকুরগাঁওয়ের একটি পাম্পে হামলা চালিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড করে দেওয়ার উদাহরণ টেনে সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে পাম্পগুলোতে ন্যূনতম নিরাপত্তাও নেই। বিশেষ করে ঈদের ছুটির সময় তেলের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ায় বিশৃঙ্খলা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

পরিবহনে ঝুঁকি ও ট্যাংকার লুটের আশঙ্কা শুধু পাম্প নয়, ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময়ও বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, পথে তেলের ট্যাংকারগুলো লুট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্বালানি সংকটের সঙ্গে এই নিরাপত্তাহীনতা যুক্ত হওয়ায় মালিকরা ব্যবসা চালিয়ে নিতে ভয় পাচ্ছেন।

সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন স্পষ্ট করে বলেছে যে, যদি দ্রুত তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং পাম্প ও ট্যাংকারের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হয়, তবে তারা সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। এমনটি ঘটলে দেশের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tags: bangladesh energy news security risk fuel crisis transportation petrol pump bangladesh-petrol-pump-owners-association