হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চরম অব্যবস্থাপনা আর দায়িত্বহীনতার শিকার হয়েছেন কয়েকশ ওমরাহ যাত্রী। সৌদি আরব ভিত্তিক বাজেট এয়ারলাইন্স ‘ফ্লাইডেল’ (flyadeal)-এর একটি ফ্লাইটের জন্য দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও শেষ পর্যন্ত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে উড়াল দিতে পারেননি ৩৬০ জনের বেশি যাত্রী। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বিমানবন্দরে এক উত্তপ্ত ও হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এসিবিহীন বিমানে বন্দী ওমরাহ যাত্রীরা ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইটটি ছাড়ার কথা থাকলেও দীর্ঘক্ষণ বিলম্ব করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে যাত্রীদের বিমানে Boarding সম্পন্ন করা হয়। তবে বিমানে ওঠার পরই শুরু হয় মূল দুর্ভোগ। ‘কারিগরি ত্রুটি’ বা Technical Glitch-এর অজুহাত দেখিয়ে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ বিমানের ভেতরেই বসিয়ে রাখা হয়। অভিযোগ উঠেছে, সেই সময় বিমানের এয়ার কন্ডিশনিং (AC) ব্যবস্থা সচল ছিল না, যার ফলে বদ্ধ পরিবেশে দীর্ঘ সময় ধরে চরম গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন বয়স্ক ও নারীসহ শত শত যাত্রী।
খাবার ও পানিহীন দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা দীর্ঘ এই অপেক্ষার মাঝে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ন্যূনতম পেশাদারিত্ব বা সহযোগিতা মেলেনি বলে অভিযোগ করেছেন ওমরাহ যাত্রীরা। ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো ধরনের খাবার বা পানি সরবরাহ করা হয়নি। ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া এই পুণ্যার্থীদের প্রতি এমন অমানবিক আচরণে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিমানবন্দর এলাকায়। যাত্রীদের অনেকেই জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় Grounded অবস্থায় এসিবিহীন বিমানে আটকে থেকে তারা শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করছেন।
কর্তৃপক্ষের নীরবতা ও প্রটোকল লঙ্ঘন এই নজিরবিহীন সংকটের বিষয়ে ফ্লাইডেল এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। সাধারণত International Civil Aviation-এর নিয়ম অনুযায়ী, ফ্লাইট দীর্ঘ বিলম্বিত হলে যাত্রীদের রিফ্রেশমেন্ট এবং প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেই বৈশ্বিক প্রটোকল পুরোপুরি লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা। যান্ত্রিক ত্রুটি যেকোনো সময় ঘটতে পারে, কিন্তু যাত্রীদের প্রতি এমন চরম দায়িত্বহীনতা এবং এয়ারপোর্ট গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং-এর (Ground Handling) দুর্বলতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।
পবিত্র ওমরাহ পালনের আবেগ নিয়ে ঘর থেকে বের হওয়া এই মানুষদের দুর্ভোগ কেবল একটি ফ্লাইট বিলম্বের ঘটনা নয়, বরং এটি সাধারণ যাত্রীদের অধিকার লঙ্ঘনের এক চরম দৃষ্টান্ত। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফ্লাইটটি ছাড়ার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি কর্তৃপক্ষ, ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যেই প্রহর গুনছেন ৩৬০ জন ওমরাহ যাত্রী।