• ক্যাম্পাস
  • ৫৬ বছরে পা দিচ্ছে বাংলাদেশ: মহান স্বাধীনতা দিবস নিয়ে যা ভাবছে দেশের তরুণ শিক্ষার্থীরা

৫৬ বছরে পা দিচ্ছে বাংলাদেশ: মহান স্বাধীনতা দিবস নিয়ে যা ভাবছে দেশের তরুণ শিক্ষার্থীরা

স্বাধীনতা মানে কেবল ভৌগোলিক মুক্তি নয়, বরং শোষণমুক্ত সমাজ ও সমৃদ্ধ আগামী—শিক্ষার্থীদের ভাবনায় উঠে এসেছে আগামীর প্রত্যাশা।

ক্যাম্পাস ১ মিনিট পড়া
৫৬ বছরে পা দিচ্ছে বাংলাদেশ: মহান স্বাধীনতা দিবস নিয়ে যা ভাবছে দেশের তরুণ শিক্ষার্থীরা

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আর ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতার ৫৬ বছরে দাঁড়িয়ে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তথা শিক্ষার্থীরা তাদের ভাবনা ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, স্বাধীনতা মানে কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, বরং শোষণমুক্ত সমাজ ও মানবিক মর্যাদাই হলো স্বাধীনতার আসল সার্থকতা।

২৬ মার্চ বাঙালির আত্মপরিচয় ও গৌরব গাঁথার দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে শুরু হয়েছিল বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ, যার চূড়ান্ত বিজয় আসে ১৬ ডিসেম্বর। স্বাধীনতার এই দীর্ঘ পথচলায় বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। তবে তরুণ প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার সংজ্ঞা কেবল বিজয় দিবসে সীমাবদ্ধ নয়; তাদের দৃষ্টিতে এটি সুশাসন, মানবিক মর্যাদা এবং সমৃদ্ধ আগামীর প্রতিশ্রুতি।

স্বাধীনতা হোক সবার জন্য ও বৈষম্যহীন গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থী জুবায়ের ইবনে কামাল মনে করেন, স্বাধীনতা মানে অন্যের ক্ষতির কারণ না হয়ে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বাঁচার আনন্দ। তার মতে, ১৯৭১ সালে সাধারণ মানুষ নিজের স্বার্থের চেয়ে একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্ন বড় করে দেখেছিল। তাই স্বাধীনতা দিবস মানে সেই অকুতোভয় যোদ্ধাদের স্মরণ করা এবং একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

চব্বিশের চেতনা ও শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. সৈয়দুর রহমান সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “স্বাধীনতা অর্জন করার চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। এক ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়ে দেশ যেন আর কোনো নতুন ফ্যাসিবাদের কবলে না পড়ে, সেদিকে ছাত্রসমাজকে সজাগ থাকতে হবে।” তিনি ২৪-এর জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দুর্নীতিমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ার ওপর জোর দেন।

শিশুর কল্পনা ও মুক্ত জীবন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. খশরু আহসান স্বাধীনতার তুলনা করেছেন একটি মুক্ত পাখির সঙ্গে। তার মতে, স্বাধীনতা মানে যা খুশি তা করা নয়, বরং নিজের কাজের মাধ্যমে অন্যের ক্ষতি না করা। তিনি শিশুদের বিকাশের জন্য এমন এক সমৃদ্ধ পৃথিবীর প্রত্যাশা করেন যেখানে তাদের কল্পনা যেন কোনো দেয়ালে আটকে না যায়।

বঙ্গবন্ধুর চেতনা ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ কুমুদিনী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রাদিয়া শানজান ইশমা এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আশিকুর রহমান স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তারা মনে করেন, স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছিল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগে। এখন সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তিতে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ 'স্মার্ট বাংলাদেশ' গড়া সময়ের দাবি।

উপসংহার তরুণ শিক্ষার্থীদের এই বহুমাত্রিক ভাবনা থেকে এটি স্পষ্ট যে, বর্তমান প্রজন্ম কেবল ইতিহাস চর্চায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। তারা চায় একটি শোষণমুক্ত, গণতান্ত্রিক এবং উন্নত রাষ্ট্র, যেখানে মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। স্বাধীনতার ৫৬ বছরে তরুণদের এই স্পৃহা ও দায়িত্ববোধই আগামীর বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি।

Tags: national day independence-day-bangladesh students-thoughts bangladesh-freedom 26th-march gen-z-perspective