দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে আবারও বড় ধরনের ধস নেমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে স্থানীয় বাজারে ‘তেজাবি স্বর্ণ’ বা পিওর গোল্ডের (Pure Gold) দাম কমায় টানা সপ্তম বারের মতো কমানো হয়েছে বহুমূল্যবান এই ধাতুর দাম। সবশেষ সাত দফার সমন্বয়ে স্বর্ণের দাম ভরিতে মোট ৩৫ হাজার ৫৭৫ টাকা হ্রাস পেল, যা দেশের জুয়েলারি ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা।
রেকর্ড দরপতন: এক নজরে নতুন দাম শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণের ঘোষণা দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ সকাল ১০টা থেকেই এই নতুন বাজারমূল্য (Market Value) কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন দামগুলো হলো:
২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা (আগে ছিল ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা)।
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা।
বাজার বিশ্লেষণ ও ঘন ঘন সমন্বয় চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৪৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ বার দাম বাড়ানো হলেও ২১ বার কমানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতির (Inflation) প্রভাবে স্বর্ণের বাজারে এমন দ্রুত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালে রেকর্ড ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং কমেছিল ২৯ বার।
বাজুস সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের স্থিতি এবং ভূ-রাজনৈতিক (Geopolitics) পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীরা অনেক সময় স্বর্ণকে ‘সেফ হ্যাভেন’ (Safe Haven) হিসেবে বেছে নেন। তবে বর্তমানে নগদ অর্থের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক বাড়ায় স্বর্ণের চাহিদা ও দামে এই নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অপরিবর্তিত রুপার বাজার স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন এলেও রুপার বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। দেশের বাজারে রুপার দাম আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৩২৪ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। চলতি বছর রুপার দাম এখন পর্যন্ত ২৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বর্ণের দামের এই ধারাবাহিক পতন সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এলেও ব্যবসায়িক লেনদেনে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গোল্ড প্রাইস (Gold Price) আরও কমলে দেশের বাজারেও এর প্রতিফলন অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।