বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য যেমন সুন্দর, তেমনি তা ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ। নদীভাঙন কবলিত চর, গভীর বনাঞ্চল কিংবা বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলোতে প্রথাগত ব্যাংক শাখা স্থাপন করা যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি কষ্টসাধ্য। এই সীমাবদ্ধতাকে জয় করে ব্র্যাক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং এখন ১,১২০টি আউটলেটের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে দেশের প্রতিটি প্রান্তে।
দুর্গম এলাকায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তির নতুন নেটওয়ার্ক সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর, পাইকগাছা ও কয়রা থেকে শুরু করে কুতুবদিয়া, হাতিয়া ও টেকনাফের মতো উপকূলীয় এলাকায় এখন ব্র্যাক ব্যাংকের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমানে এসব দুর্গম অঞ্চলে প্রায় ১৭টি আউটলেট সুন্দরবন এলাকায় এবং ৭৬টি আউটলেট উপকূলীয় ও চরাঞ্চলে সেবা প্রদান করছে। এর ফলে প্রান্তিক মানুষ প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
পাহাড় ও চরাঞ্চলে সেবার বিস্তৃতি পার্বত্য অঞ্চলের রামগড়, মানিকছড়ি ও দীঘিনালার মতো দুর্গম এলাকাগুলোতেও ১১টি আউটলেটের মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব আউটলেটে সেভিংস ও কারেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা, ডিপিএস, এফডিআর, বিদেশ থেকে আসা রেমিটেন্স গ্রহণ এবং সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা খাতের ভাতা বিতরণ করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই অঞ্চলগুলোতে ৬০ হাজারেরও বেশি নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন এবং প্রায় ২০০ কোটি টাকারও বেশি আমানত জমা হয়েছে।
উদ্যোক্তা তৈরি ও ক্ষুদ্র ঋণের প্রসার এজেন্ট ব্যাংকিং কেবল লেনদেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। দুর্গম অঞ্চলের গ্রাহকদের এ পর্যন্ত ৬৫ কোটি টাকারও বেশি অর্থায়ন বা ঋণ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় গতিশীলতা এসেছে। বিশেষ করে নারীদের আর্থিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডিজিটাল প্রযুক্তিতে আস্থার প্রতীক বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন ও রিয়েল-টাইম ট্রানজ্যাকশন ব্যবহারের মাধ্যমে লেনদেনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। স্থানীয় বিশ্বস্ত উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় গ্রাহকদের মাঝে আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে। নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি ক্যাশলেস ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি বিনির্মাণে ব্র্যাক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং এখন এক শক্তিশালী নাম।