• আন্তর্জাতিক
  • যুদ্ধ বন্ধে চাপে ট্রাম্প, ইরান নিয়ে ভয়ে আছেন মিত্ররা

যুদ্ধ বন্ধে চাপে ট্রাম্প, ইরান নিয়ে ভয়ে আছেন মিত্ররা

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
যুদ্ধ বন্ধে চাপে ট্রাম্প, ইরান নিয়ে ভয়ে আছেন মিত্ররা

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে নিজের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় চাপে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

একদিকে যুদ্ধ থামানোর অভ্যন্তরীণ চাপ। অন্যদিকে তেহরানের ‘অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ দেশটিকে আগের চেয়ে আরও বিপজ্জনক আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করেছে বলে মিত্র দেশগুলোর উদ্বেগ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন এই দুই বিপরীতমুখী চাপে কোণঠাসা।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প যাকে ‘সামান্য যাত্রাবিরতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, সেই সংঘাতের প্রায় চার সপ্তাহ শেষ হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাজার হাজার বিমান হামলা সত্ত্বেও ইরানের সরকার ক্ষমতা ধরে রেখেছে। দেশটি পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে এবং ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে তাদের অনমনীয় অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছে।

ট্রাম্প এবং তাঁর শীর্ষ সহযোগীরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাঁরা দ্রুতই এই যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে চান। তাঁদের ভাষ্যমতে, এই যুদ্ধ চার থেকে ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার কথা ছিল এবং ২৬তম দিনে এটি পরিকল্পিত সময়ের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর পূর্বনির্ধারিত চীন সফর ১৪ মে পর্যন্ত স্থগিত করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, হোয়াইট হাউস ওই সময়ের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ হবে বলে আশা করছে।

এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা ট্রাম্পের মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকে একটি ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব প্রচার করেছেন। এই ১৫ দফায় যুদ্ধ শুরুর আগে ট্রাম্পের দেওয়া শর্তগুলোরই প্রতিফলন দেখা গেছে।

ইরান এই যুদ্ধ টেনে নিতে চায়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তাদের দুটি উদ্দেশ্য ছিল-প্রথমত, টিকে থাকা আর দ্বিতীয়ত, ট্রাম্পের চেয়ে বেশি সময় মাঠে থাকা। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এবং জ্বালানি অবকাঠামোয় আঘাত হেনে তাদের এমন শিক্ষা দেওয়া, যাতে তারা পুনরায় এমন পদক্ষেপ না নেয়। তারা নিশ্চিত করতে চায় যে ইসরায়েল লেবাননে যেভাবে প্রতি ছয় মাস পরপর হামলা করে, এখানে তেমনটা করতে না পারে। —নেইট সোয়ানসন, সদস্য, আটলান্টিক কাউন্সিল তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা এই হামলা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ঝুঁকিগুলোকে আমূল বদলে দিয়েছে। লড়াই শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ও নিরাপদ থাকলেও এখন তা একটি ‘বিপজ্জনক অঞ্চল’।

পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্র শুরু থেকেই এই যুদ্ধ নিয়ে সংশয়ে ছিল। এই মিত্ররা এখন আশঙ্কা করছে, কট্টরপন্থী নেতাদের শাসনাধীন যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ইরান এসব দেশের জনগণের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে।

হরমুজ প্রণালির কারণে শক্ত অবস্থানে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের দোদুল্যমান অবস্থার চিত্রটি ফুটে উঠেছে।

হরমুজ সংকট নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘ধরা যাক আমরা দারুণ কাজ করলাম এবং ৯৯ শতাংশ লক্ষ্য অর্জন করলাম। কিন্তু বাকি ১ শতাংশ অর্জনযোগ্য নয়। আর ওই ১ শতাংশের মানে হলো একটি ক্ষেপণাস্ত্র ১০০ কোটি ডলার মূল্যের একটি জাহাজে আঘাত হানা।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা যদি ৯৯ শতাংশ ধ্বংসও করতে পারি, তাতেও কোনো লাভ নেই।’

ট্রাম্প সরাসরি না বললেও ইরানি কর্মকর্তারা সম্ভবত এই ৯৯-১ শতাংশের অসম ব্যবধানের ওপরই ভরসা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত বোমা হামলায় ইরান সামরিকভাবে অনেক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও এই সমীকরণটি তেহরানের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বোমা হামলার মধ্যেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে আঘাত হানার সক্ষমতা দেখিয়েছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে দেশটির নেতারা জনসমক্ষে তাঁদের দাবিগুলোতে অনড় রয়েছেন। তাঁরা জোর দিয়ে বলছেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে আর কখনো হামলা না করার অঙ্গীকার করতে হবে। চিন্তন প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের সদস্য এবং গত বছর ট্রাম্পের ইরানসংশ্লিষ্ট আলোচনা দলে থাকা সাবেক কূটনীতিক নেইট সোয়ানসন বলেন, ‘ইরান এই যুদ্ধ টেনে নিতে চায়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তাদের দুটি উদ্দেশ্য ছিল—প্রথমত, টিকে থাকা আর দ্বিতীয়ত, ট্রাম্পের চেয়ে বেশি সময় মাঠে থাকা। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এবং জ্বালানি অবকাঠামোয় আঘাত হেনে তাদের এমন শিক্ষা দেওয়া, যাতে তারা পুনরায় এমন পদক্ষেপ না নেয়। তারা নিশ্চিত করতে চায় যে ইসরায়েল লেবাননে যেভাবে প্রতি ছয় মাস পরপর হামলা করে, এখানে তেমনটা করতে না পারে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বোমা হামলার মধ্যেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে আঘাত হানার সক্ষমতা দেখিয়েছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে দেশটির নেতারা জনসমক্ষে তাঁদের দাবিগুলোতে অনড় রয়েছেন। তাঁরা জোর দিয়ে বলছেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে আর কখনো হামলা না করার অঙ্গীকার করতে হবে।

Tags: যুদ্ধ ট্রাম্প