রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম’ সিনেমায় পূজা চেরীর অন্তর্ভুক্তি ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পূজা জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারে এই প্রথমবার তাঁকে কোনো চরিত্রের জন্য রীতিমতো অডিশন দিতে হয়েছে।
অডিশনের স্নায়ুচাপ ও নির্বাচন সিনেমার গল্প এবং সহশিল্পীদের নাম শুনে পূজা আগে থেকেই আগ্রহী ছিলেন। তবে অডিশন নিয়ে তিনি বেশ চিন্তিত ছিলেন। পূজা বলেন, “অনেক সংলাপ মুখস্থ করে ক্যামেরার সামনে অডিশন দিয়েছি। বেশ কয়েকদিন কোনো খবর না আসায় ভেবেছিলাম বাদ পড়েছি। কিন্তু যখন চূড়ান্ত হওয়ার খবর পেলাম, তখন যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম।”
স্বাভাবিক অভিনয়ের প্রস্তুতি পরিচালক রেদওয়ান রনি শুরুতেই পূজাকে কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন ক্যামেরার সামনে কোনো ‘অভিনয়’ না থাকে। তিনি চেয়েছিলেন পূজা যেন নিজের সত্তা ভুলে পুরোপুরি ‘রানী’ হয়ে ওঠেন। পূজার ভাষ্যমতে, “রনি ভাই বলেছিলেন, তুমিই রানী আর তোমার স্বামীর জন্য লড়াই করছ—এভাবেই দৃশ্যগুলো ন্যাচারাল হতে হবে।”
কাজাখস্তানের হাড়কাঁপানো শুটিং অভিজ্ঞতা ‘দম’ সিনেমার একটি বড় অংশের শুটিং হয়েছে কাজাখস্তানের চরম প্রতিকূল পরিবেশে। মাইনাস তাপমাত্রায় পাতলা শাড়ি বা জামা পরে এবং খালি পায়ে শুটিং করতে হয়েছে পূজাকে। তিনি বলেন, “ঠান্ডার কারণে পা কেটে রক্ত বেরিয়ে গিয়েছিল। শুধু কাজাখস্তান নয়, পাবনার হাড়কাঁপানো শীতে বৃষ্টির মধ্যে শুটিং করাটাও ছিল এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। এমন প্রতিকূল অবস্থায় আগে কখনো কাজ করিনি।”
সহশিল্পীদের থেকে অভিনয়ের পাঠ এই সিনেমায় আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী, জাহিদ হাসান এবং ডলি জহুরের মতো শক্তিমান অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন পূজা। তাঁদেরকে ‘অভিনয়ের পাঠশালা’ হিসেবে দেখছেন তিনি। পূজা জানান, সিনিয়রেরা প্রতিটি দৃশ্যে তাঁকে সহযোগিতা করেছেন এবং ভুলগুলো শুধরে দিয়েছেন। বিশেষ করে আফরান নিশো ও চঞ্চল চৌধুরীর কাছ থেকে পাওয়া সমর্থন তাঁর অভিনয়কে সহজ করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক টিমের পেশাদারত্ব বিদেশের টিমের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও ছিল দারুণ। মিখাইল সিরিয়ানভের মতো চিত্রগ্রাহক ও আন্তর্জাতিক ক্রুদের সময়ানুবর্তিতা পূজাকে মুগ্ধ করেছে। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক এই অভিজ্ঞতা তাঁর ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।