আন্তর্জাতিক আর্চারি অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম আরও একবার উজ্জ্বল করলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কৃতি অ্যাথলেট ল্যান্স নায়েক নেওয়াজ আহম্মদ রাকিব। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ‘২০২৬ এশিয়া কাপ ওয়ার্ল্ড র্যাঙ্কিং টুর্নামেন্ট, স্টেজ-১’-এ বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে অংশ নিয়ে তিনি স্বর্ণপদক অর্জনের এক অনন্য গৌরব অর্জন করেছেন। বিজিবির এই চৌকস সদস্যের হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে বেজেছে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত।
লড়াই যখন বিশ্বমঞ্চে: ভিয়েতনাম বধের গল্প গত ২১ মার্চ ব্যাংককে শুরু হওয়া এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২২টি দেশের মোট ৪২ জন শীর্ষস্থানীয় আর্চার অংশগ্রহণ করেন। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বাংলাদেশ দল অদম্য নৈপুণ্য প্রদর্শন করে। গত ২৭ মার্চ সকালে অনুষ্ঠিত ‘Compound Men's Team’ বা দলগত কম্পাউন্ড পুরুষ বিভাগের হাই-ভোল্টেজ ফাইনালে শক্তিশালী ভিয়েতনামের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। স্নায়ুক্ষয়ী সেই লড়াইয়ে অসাধারণ লক্ষ্যভেদ করে বাংলাদেশ দল ২৩২-২২৫ পয়েন্টের ব্যবধানে ভিয়েতনামকে পরাজিত করে ‘Gold Medal’ নিশ্চিত করে। এই ঐতিহাসিক জয়ে দলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ল্যান্স নায়েক রাকিব।
কিশোরগঞ্জ থেকে ব্যাংকক: এক অদম্য যাত্রার নাম রাকিব স্বর্ণজয়ী এই বীর সন্তানের শিকড় কিশোরগঞ্জ জেলার হাইধনখালি গ্রামে। বর্তমানে তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নে (১১ বিজিবি) কর্মরত রয়েছেন। পেশাদারিত্বের পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি তার একাগ্রতা তাকে বিশ্বমঞ্চে এই অভাবনীয় সাফল্য এনে দিয়েছে। গত ২০ মার্চ বাংলাদেশ দলের সঙ্গে তিনি থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও কঠিন পরিশ্রমের ফসল হিসেবে এই সাফল্য বিজিবির ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে আরও উজ্জ্বল করল।
বিজিবির মুকুটে নতুন পালক: উল্লাস সদর দপ্তরে শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে বিজিবি সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সাফল্যের খবর জানানো হয়। বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, ল্যান্স নায়েক রাকিবের এই অসামান্য অর্জন কেবল বিজিবির জন্য নয়, বরং গোটা বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। দেশের সীমানা রক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনেও বিজিবির সদস্যরা যে পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রাখছেন, রাকিবের স্বর্ণজয় তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আর্চারি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ‘World Ranking Tournament’-এর মতো বড় মঞ্চে এই জয় বাংলাদেশি আর্চারদের ‘Confidence’ বা আত্মবিশ্বাস কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে কম্পাউন্ড ইভেন্টে বাংলাদেশের এই দাপট আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে দেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের সাফল্য দেশের তরুণ প্রজন্মের অ্যাথলেটদের জন্য নতুন উদ্দীপনা জোগাবে এবং বৈশ্বিক ক্রীড়া মানচিত্রে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।