• দেশজুড়ে
  • রাতের অন্ধকারে কৃষকের ১০০০ কলাগাছ কর্তন, কাপাসিয়ায় চাঞ্চল্য

রাতের অন্ধকারে কৃষকের ১০০০ কলাগাছ কর্তন, কাপাসিয়ায় চাঞ্চল্য

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
রাতের অন্ধকারে কৃষকের ১০০০ কলাগাছ কর্তন, কাপাসিয়ায় চাঞ্চল্য

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের টোকনগর গ্রামে এক মর্মস্পর্শী ঘটনা ঘটেছে। কৃষক রুস্তম আলী (৫৮) এর দেড় বিঘা জমির প্রায় এক হাজার কলাগাছ রাতের আঁধারে কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। গত শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাতে এই ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রুস্তম আলীর অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম কবির ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে তার এই জমি অর্ধেক দামে বিক্রির জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। কৃষক জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। রুস্তম আলী জানান, প্রায় এক দশক আগে তিনি ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম কবিরের কাছ থেকেই এই জমি কিনেছিলেন। কিন্তু গত ৩-৪ বছর ধরে কবিরের লোকজন জমিটি অর্ধেক দামে ফেরত দেওয়ার জন্য নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। রুস্তম আলী জমির সঠিক মূল্য দিয়ে ফেরত নিতে চাইলেও কবির তাতে রাজি হননি।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও কৃষকের দুর্দশা

এই ঘটনায় রুস্তম আলী মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি সুদে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এই কলাবাগান করেছিলেন। তার লাগানো এক হাজার কলাগাছের মধ্যে প্রায় ৭০০ গাছে কলা পাকতে শুরু করেছিল এবং এক সপ্তাহের মধ্যেই সেগুলো বাজারজাত করার উপযুক্ত হয়ে উঠতো। এই আকস্মিক ক্ষতি কৃষক রুস্তম আলীকে পথে বসানোর উপক্রম করেছে।

থানায় অভিযোগ দায়ের

এ ঘটনায় কৃষক রুস্তম আলী বাদী হয়ে ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম কবিরসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬ জনকে অভিযুক্ত করে কাপাসিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন টোকনগর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে শফিকুল ইসলাম কবির (৫০), একই গ্রামের সোহেল (৩৫), ইসলামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদ চৌধুরীর ছেলে ইকবাল চৌধুরী (৫৫), এবং কাশেঁরা গ্রামের মৃত লিয়াকত আলীর ছেলে বাদল (৫৫)।

পুলিশের তদন্ত শুরু

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব এই বিষয়ে বলেন, পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "কৃষকের সঙ্গে কারো সমস্যা থাকতেই পারে, কিন্তু এভাবে গাছ কেটে দেওয়ার এখতিয়ার কারো নেই। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত চলছে।"

এই ঘটনা স্থানীয় কৃষি সমাজ ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও এলাকাবাসী।