বিমানবন্দর থেকে সরাসরি জাতীয় দলের ক্যাম্পে
সোমবার সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর হামজা চৌধুরীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। পূর্বনির্ধারিত ফ্লাইট মিস করায় তার আগমনে কিছুটা বিলম্ব ঘটে। তবে ঢাকায় পৌঁছে কালবিলম্ব না করে তিনি সরাসরি যোগ দেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্পে। সোমবার দলের কোনো অনুশীলন না থাকায় হোটেলেই বিশ্রাম নেন তিনি। মঙ্গলবার কোচ হাভিয়ের কাবরেরার অধীনে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় দলের অনুশীলনে দেখা যাবে তাকে।
জয়ের বার্তা ও সিলেটি টান
ক্যাম্পে যোগ দিয়েই এক ভিডিও বার্তায় সমর্থকদের আশ্বস্ত করেছেন হামজা। নিজের শেকড়ের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ রেখে তিনি বিশুদ্ধ সিলেটি টানে বলেন, “দারুণ অভ্যর্থনা পেলাম। আবারও ঢাকায় ফিরে আসতে পেরে খুশি লাগছে। সবাইকে ইতিবাচক থাকতে হবে।” এরপরই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে নিজের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে দেন, “ইনশাআল্লাহ, ভারতের সঙ্গে আমরা জিতমু। দেশের জন্য এটা বড় ম্যাচ। আমরা সবাই রোমাঞ্চিত।” তার এই বার্তা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে উন্মাদনা তৈরি করে।
বাছাইপর্বের সমীকরণ ও মর্যাদার লড়াই
এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন বাংলাদেশের আগেই শেষ হয়ে গেছে। চার ম্যাচে দুটি ড্র থেকে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে টেবিলের তলানিতে রয়েছে ভারত। ফলে গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলো এখন বাংলাদেশের জন্য স্রেফ নিয়মরক্ষার। তবে প্রতিপক্ষ যখন ভারত, তখন যেকোনো ম্যাচই পরিণত হয় মর্যাদার লড়াইয়ে। এই ম্যাচ জিতে বাছাইপর্ব শেষ করার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যরা।
অভিষেকের স্মৃতি এবং ঘরের মাঠের লক্ষ্য
ভারতের বিপক্ষেই বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল হামজা চৌধুরীর। গত মার্চে শিলংয়ে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। এবার ঘরের মাঠে চেনা পরিবেশে সমর্থকদের সামনে খেলার সুযোগ। অ্যাওয়ে ম্যাচের ড্রকে এবার ঘরের মাঠের জয়ে পরিণত করতে চান এই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ খেলা তারকা। ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশ দল নিজেদের ঝালিয়ে নিতে ১৩ নভেম্বর নেপালের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামবে। সেই ম্যাচটিও দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।