• খেলা
  • "যেখানে আমি বিশ্বের সবচেয়ে সুখী ছিলাম", রাতের নিস্তব্ধতায় ন্যু ক্যাম্পে ফিরে এ কী লিখলেন মেসি!

"যেখানে আমি বিশ্বের সবচেয়ে সুখী ছিলাম", রাতের নিস্তব্ধতায় ন্যু ক্যাম্পে ফিরে এ কী লিখলেন মেসি!

খেলা ১ মিনিট পড়া
"যেখানে আমি বিশ্বের সবচেয়ে সুখী ছিলাম", রাতের নিস্তব্ধতায় ন্যু ক্যাম্পে ফিরে এ কী লিখলেন মেসি!

৮৯৪ দিনের প্রতীক্ষার অবসান, নিজের 'ঘরে' ফিরে এক অসমাপ্ত বিদায় সম্পূর্ণ করার ইঙ্গিত দিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

এক নিঃশব্দ প্রত্যাবর্তন

যে মাঠ থেকে ২০২১ সালে তাঁকে বিদায় নিতে হয়েছিল কান্নাভেজা চোখে, যে সবুজ ঘাসের গালিচায় তিনি রচনা করেছেন ফুটবল ইতিহাসের অসংখ্য রূপকথা, সেই ক্যাম্প ন্যুতে ৮৯৪ দিন পর নিঃশব্দে পা রাখলেন লিওনেল মেসি। বার্সেলোনা দলের খেলোয়াড় হিসেবে ফেরার সব গুঞ্জনকে পেছনে ফেলে, সংস্কারের পর নতুন রূপে ফেরা নিজের 'ঘরে' তিনি এলেন একাকী, একরাশ স্মৃতি আর আবেগ নিয়ে।

শুক্রবার রাতে যেখানে লামিনে ইয়ামাল, রবার্ট লেভানডফস্কিরা হাজার হাজার দর্শকের সামনে অনুশীলন করেছেন, তার পরের রাতেই সেই আলোঝলমলে মাঠে গোপনে হাজির হয়েছিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। এই সফর নিছকই ভ্রমণ ছিল না, ছিল এক গভীর আবেগের বহিঃপ্রকাশ, যা তিনি তুলে ধরেছেন তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে।

ইনস্টাগ্রামে আবেগের বিস্ফোরণ

মাঠের মাঝে দাঁড়ানো নিজের কয়েকটি ছবি পোস্ট করে ইন্টার মায়ামি ফরোয়ার্ড যে ক্যাপশন লিখেছেন, তা ছুঁয়ে গেছে বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের হৃদয়। মেসি লিখেছেন, “গত রাতে আমি এমন এক জায়গায় ফিরে গিয়েছিলাম, যে জায়গাকে আমি আমার আত্মা দিয়ে অনুভব করি। এমন এক জায়গা, যেখানে আমি ছিলাম পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। যেখানে তোমরা সবাই আমাকে অনুভব করিয়েছিলে যে আমিই বিশ্বের সুখী মানুষ। আশা করি একদিন আবার ফিরতে পারব, শুধু খেলোয়াড় হিসেবে বিদায় জানাতে নয়, বরং তেমনভাবে, যেমনটা আগে কখনো পারিনি...।”

তাঁর এই বার্তার প্রতিটি শব্দে ঝরে পড়েছে ক্যাম্প ন্যুর প্রতি তাঁর নাড়ির টান এবং এক অসমাপ্ত বিদায়ের যন্ত্রণা। এই পোস্ট এক মুহূর্তে উসকে দিয়েছে পুরনো জল্পনা—তবে কি মেসি ফিরবেন তাঁর প্রাপ্য বিদায়ী সংবর্ধনা নিতে?

ভবিষ্যতের জল্পনা ও সভাপতির ইঙ্গিত

মেসির এই সফরের পর সেই জল্পনার আগুনে যে নতুন করে ঘি পড়ল, তা বলাই বাহুল্য। অতীতে একাধিকবার ক্যাম্প ন্যুতে মেসিকে একটি আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়ার কথা শোনা গিয়েছিল। সম্প্রতি বার্সা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তাও সেই ভাবনার পুনরাবৃত্তি করে বলেছিলেন, “ক্যাম্প ন্যুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন যদি লিওনেল মেসিকে সম্মান জানিয়ে করা যায়, তবে সেটা দারুণ একটা ব্যাপার হবে।” মেসির এই সফরের পর ক্লাব কর্তৃপক্ষ যে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করবে, তা নিশ্চিত।

সবকিছু ঠিক থাকলে, চলতি মাসের শেষ দিকেই প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ ফিরতে চলেছে ক্যাম্প ন্যুতে। ক্লাবের ১২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২২ নভেম্বর অ্যাথলেটিক বিলবাও অথবা ২৯ নভেম্বর আলাভেসের বিপক্ষে মাঠে নামার পরিকল্পনা রয়েছে বার্সেলোনার। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে আগামী ২ ডিসেম্বর লা লিগায় আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের ঐতিহাসিক মাঠে ফিরবে কাতালান ক্লাবটি। আর সেই মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হতে মেসিকেও হয়তো দেখা যাবে রাজকীয় কোনো ভূমিকায়।