বিশ্বজুড়ে স্থূলতা বা Obesity এখন কেবল সমস্যা নয়, বরং এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার সংস্কৃতি এবং লাগামছাড়া মানসিক চাপের কারণে শুধু বয়স্করাই নন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও দ্রুত বাড়ছে ওজন বৃদ্ধির এই প্রবণতা। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, বিখ্যাত The Lancet Medical Journal-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে স্থূলতা বিশ্বজুড়ে এক মহামারির আকার ধারণ করবে। এই তালিকার শীর্ষে থাকবে ভারত, চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো।
কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমতে শুরু করলে তার প্রথম সতর্কবার্তা শরীরের কোন অংশ দেয়? ৯৯ শতাংশ মানুষই বলবেন—পেট। মহিলাদের ক্ষেত্রে উত্তরটা হতে পারে কোমর, ঊরু বা নিতম্ব। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই ধারণা একেবারেই ভুল। আসল উত্তরটি জানলে আপনি অবাক হতে বাধ্য।
পেট নয়, আসল রহস্য লুকিয়ে জিভে
শুনতে যতই অদ্ভুত লাগুক, বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শরীরে মেদ জমা শুরু হলে তার প্রথম লক্ষণ প্রকাশ পায় জিভে। আমাদের জিভের যে মূল অংশ বা গোড়া রয়েছে, ওজন বাড়তে শুরু করলে সেখানেই মেদের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। পেটে বা কোমরে চর্বি জমার অনেক আগেই জিভের তলার অংশে এই পরিবর্তন ঘটে। এটি এতটাই সূক্ষ্ম যে, সাধারণত খালি চোখে বা নিজে থেকে বোঝা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু এর একটি সুস্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে, যা আপনার ঘুমের মধ্যেই প্রকাশ পায়।
কীভাবে বুঝবেন ওজন বাড়ছে? উত্তর দেবে আপনার ঘুম
চিকিৎসকরা বলছেন, জিভে মেদ জমার বিষয়টি আপনি নিজে বুঝতে না পারলেও আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনী কিন্তু খুব সহজেই টের পেতে পারেন। কীভাবে? উত্তরটি হলো আপনার নাক ডাকার ধরনে। দেহে মেদের পরিমাণ বাড়লে, বিশেষ করে জিভের গোড়ায় চর্বি জমলে, তা শ্বাসপ্রশ্বাসের পথকে সংকুচিত করে দেয়। এর ফলে ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার তীব্রতা হঠাৎ করেই অনেকটাই বেড়ে যায়।
আপনি হয়তো আগেও অল্পস্বল্প নাক ডাকতেন, কিন্তু ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই শব্দ অনেক বেশি কর্কশ ও তীব্র হয়ে ওঠে। এই পরিবর্তনই হলো আপনার শরীরে গোপনে বেড়ে চলা মেদের প্রথম সতর্কসংকেত। তাই আপনার সঙ্গী যদি হঠাৎ করে আপনার নাক ডাকার তীব্রতা নিয়ে অভিযোগ করতে শুরু করেন, তাহলে বিষয়টিকে হালকাভাবে না নিয়ে নিজের ওজন ও খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়ার এটাই হয়তো সেরা সময়।