• আন্তর্জাতিক
  • ইসলামাবাদে রক্তক্ষয়ী হামলা, দায় স্বীকার TTP-র, সরকারের নিশানায় ভারত-আফগানিস্তান

ইসলামাবাদে রক্তক্ষয়ী হামলা, দায় স্বীকার TTP-র, সরকারের নিশানায় ভারত-আফগানিস্তান

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ইসলামাবাদে রক্তক্ষয়ী হামলা, দায় স্বীকার TTP-র, সরকারের নিশানায় ভারত-আফগানিস্তান

নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP) হামলার দায় নিলেও পাক প্রধানমন্ত্রী দুষছেন ভারতকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ইঙ্গিত আফগানিস্তানের দিকে।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ মঙ্গলবার এক ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় কেঁপে উঠল। শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি আদালতের বাইরে হওয়া এই বিস্ফোরণে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩৬ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP), যা পাকিস্তান তালেবান নামেও পরিচিত, এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে পাকিস্তান সরকারের একাধিক শীর্ষ মহল থেকে এই ঘটনার জন্য ভারত ও আফগানিস্তানকে দায়ী করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

টিটিপি-র দায় স্বীকার ও শরিয়াহ আইনের হুমকি

হামলার পরপরই এক বিবৃতিতে TTP জানিয়েছে, "আমাদের যোদ্ধা ইসলামাবাদের বিচার কমিশনের ওপর হামলা চালিয়েছে।" গোষ্ঠীটির দাবি, পাকিস্তানের যেসব বিচারক, আইনজীবী এবং সরকারি কর্মকর্তা ইসলামি আইনবিরোধী রায় দিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে আরও বড় হামলার হুমকি দিয়ে তারা বলেছে, "যতক্ষণ না এই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ইসলামি শরিয়াহ আইন (Islamic Shariah law) কার্যকর করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের হামলা চলবে।"

ঘটনার বিবরণ ও প্রাথমিক তদন্ত

মঙ্গলবার বিকেলে ইসলামাবাদের একটি আদালতের বাইরে পার্ক করা একটি গাড়িতে এই শক্তিশালী বিস্ফোরণটি ঘটে। এলাকাটি সাধারণত জনবহুল হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই সাধারণ পথচারী, যারা আদালতে শুনানির জন্য এসেছিলেন।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, হামলাকারী প্রথমে আদালত চত্বরে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল কিন্তু কঠোর নিরাপত্তায় ব্যর্থ হয়ে বাইরে থাকা একটি পুলিশের গাড়িকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। তবে তিনি প্রাথমিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে দোষারোপ করেননি। তিনি বলেন, "কর্তৃপক্ষ এই হামলার সকল দিক খতিয়ে দেখছে। আমাদের ফরেনসিক দলের কাছ থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পরই আমরা বিস্ফোরণের প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারব।"

পাকিস্তানের ভিন্ন সুর: নিশানায় কাবুল ও দিল্লি

এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান সরকারের অন্দরে কার্যত ভিন্ন ভিন্ন সুর শোনা গেছে, যেখানে দায় স্বীকারকারী TTP-কে ছাপিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এই হামলাকে একটি "সতর্কবার্তা" হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, "পাকিস্তান এখন একটি যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।" তিনি এই হামলার জন্য সরাসরি আফগানিস্তানের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, "কাবুলের শাসকরা পাকিস্তানে সন্ত্রাস বন্ধ করতে পারে, কিন্তু ইসলামাবাদে এই যুদ্ধ নিয়ে আসা কাবুলের একটি বার্তা, যার জবাব পাকিস্তান পুরোপুরি দিতে সক্ষম।"

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই হামলার জন্য চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে দায়ী করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "ভারতীয় সহায়তায় সক্রিয় চরমপন্থি গোষ্ঠী 'ফিতনা আল-হিন্দুস্তান' এই বোমা হামলা চালিয়েছে।"

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "আফগানিস্তান থেকে ভারতীয় প্ররোচনায় সক্রিয় খাওয়ারিজরা একই সময়ে ওয়াজিরিস্তানের ওয়ানায় নিরীহ শিশুদের ওপরও আক্রমণ করেছে। বিশ্বের কাছে ভারতের এই ধরনের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের নিন্দা করার সময় এসেছে। উভয় আক্রমণই এই অঞ্চলে ভারতীয় রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে খারাপ উদাহরণ।"

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখার প্রত্যয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সন্ত্রাসবাদের ভয়াবহতা সম্পূর্ণরূপে নির্মূল না হওয়া এবং 'ফিতনা আল-হিন্দুস্তান' ও 'ফিতনা আল-খাওয়ারিজের' শেষ সন্ত্রাসীকে খতম না করা পর্যন্ত আমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাব।" প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।