• দেশজুড়ে
  • ডেঙ্গুর উদ্বেগজনক বিস্তার, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ মৃত্যুতে বছরজুড়ে প্রাণহানি ৩১৮

ডেঙ্গুর উদ্বেগজনক বিস্তার, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ মৃত্যুতে বছরজুড়ে প্রাণহানি ৩১৮

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ডেঙ্গুর উদ্বেগজনক বিস্তার, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ মৃত্যুতে বছরজুড়ে প্রাণহানি ৩১৮

নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯১২ জন, বছর শেষেও নিয়ন্ত্রণে আসছে না পরিস্থিতি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে গভীর উদ্বেগ।

বর্ষা মৌসুম শেষ হলেও সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমার কোনো লক্ষণ নেই, বরং পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩১৮ জনে। একই সময়ে নতুন করে আরও ৯১২ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা危机的 তীব্রতাকেই নির্দেশ করে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আশঙ্কাজনক তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশজুড়ে সংক্রমণের চিত্র

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৯১২ জন রোগীর মধ্যে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকাতেই রয়েছেন ৩২৫ জন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৯৪ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩১ জন ভর্তি হয়েছেন।

ঢাকার বাইরেও সংক্রমণের হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে) নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ১৩০ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৫১ জন এবং বরিশাল বিভাগে ১৩৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা এই দুই অঞ্চলে ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তারের প্রমাণ দেয়। খুলনা বিভাগে ৭২ জন, রাজশাহী বিভাগে ৮৮ জন, সিলেট বিভাগে ৫ জন এবং রংপুর বিভাগে ৩ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বছরজুড়ে সংকটের পরিসংখ্যান

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮০ হাজার ৬৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে আশার আলো দেখিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৬ হাজার ৯৩৮ জন। গত একদিনেও সারা দেশে ৯২৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে প্রতিদিন নতুন সংক্রমণের হার এবং অব্যাহত মৃত্যু জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

অতীতের রেকর্ড ও বর্তমান বাস্তবতা

বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি গত কয়েক বছর ধরেই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ২০২৩ সাল ছিল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বিপর্যয়কর বছর। ওই বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং প্রাণ হারিয়েছিলেন রেকর্ড ১ হাজার ৭০৫ জন। সেই তুলনায় চলতি বছর আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কম হলেও পরিস্থিতিকে কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে ডেঙ্গু এখন আর মৌসুমী রোগ নেই, বরং বছরজুড়েই এর প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন তারা।