ব্রাজিল জাতীয় দলে নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। একদিকে বারবার চোটের থাবা, অন্যদিকে মাঠের বাইরের বিতর্ক— সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারের এক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন এই মহাতারকা। এই পরিস্থিতিতে সেলেসাওদের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কেবল প্রতিভা দিয়ে হলুদ জার্সিতে ফেরা সম্ভব নয়। নেইমারকে নিজের সেরা শারীরিক অবস্থায় পৌঁছাতে হবে এবং পারফর্ম্যান্স দিয়েই দলে জায়গা করে নিতে হবে।
চোট জর্জরিত অধ্যায় ও ফর্মের সঙ্গে লড়াই
২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে গুরুতর হাঁটুর চোটে (ACL injury) মাঠ ছাড়েন নেইমার। এরপর থেকে জাতীয় দলের বাইরে তিনি। দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার পর সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলালের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আসেন নেইমার।[1][2] আশা ছিল, চেনা পরিবেশে নিজেকে ফিরে পাবেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, سانتوس-এ ফেরার পরেও চোটের সঙ্গে তার লড়াই থামেনি। সম্প্রতি পেশীর চোটে প্রায় ৪৮ দিন মাঠের বাইরে থাকার পর সবেমাত্র খেলায় ফিরেছেন তিনি।[3]
কোচের কড়া বার্তা: 'পারফর্ম্যান্সই মাপকাঠি'
ব্রাজিলের কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কার্লো আনচেলত্তি এখনো পর্যন্ত নেইমারকে দলে ডাকেননি। তার পরিকল্পনায় নেইমার থাকলেও, দলে ফেরার জন্য যে কঠিন শর্ত পূরণ করতে হবে, তা তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই কিংবদন্তি কোচের মতে, আধুনিক ফুটবলের চাহিদা অনেক বেশি।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "সত্যিটা হলো, আজকের দিনের ফুটবল অনেক কিছুই দাবি করে। শুধু প্রতিভা দিয়ে হয় না, শারীরিক অবস্থা (physical condition), একাগ্রতা এবং ইনটেনসিটি প্রয়োজন। আশা করি নেইমার তার সেরা অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে।"[4] আনচেলত্তির এই মন্তব্যকে নেইমারের প্রতি এক প্রকার সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, দলের দরজা বন্ধ না হলেও, পারফর্ম্যান্সের গ্রাফ নিচে থাকলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
মাঠের মেজাজ ও নতুন বিতর্ক
চোট এবং ফর্মের পাশাপাশি নেইমারের মাঠের আচরণও তাকে নতুন করে সমালোচনার মুখে ফেলেছে। গত রোববার (৯ নভেম্বর) ফ্লামেঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে দীর্ঘদিন পর প্রথম একাদশে সুযোগ পান তিনি। তবে ম্যাচে নিজের ছায়া হয়েই ছিলেন। ৮৫ মিনিটে দল ৩-০ গোলে পিছিয়ে থাকার সময় কোচ তাকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।[5] কোচের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান নেইমার এবং সরাসরি ড্রেসিংরুমের দিকে চলে যান, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে।[6][7] আশ্চর্যজনকভাবে, নেইমার মাঠ ছাড়ার পর সান্তোস দুটি গোল শোধ করে, যদিও ম্যাচটি তারা ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায়।[8]
সুতরাং, ৩৩ বছর বয়সী নেইমারের জন্য জাতীয় দলে ফেরার পথটি বেশ বন্ধুর। একদিকে যেমন তাকে সম্পূর্ণ ফিট হয়ে মাঠে নিজের সেরাটা প্রমাণ করতে হবে, তেমনই অন্যদিকে মাঠের ভেতরের আচরণ এবং মানসিক স্থিতিশীলতার পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হতে হবে। আনচেলত্তির মতো একজন বাস্তববাদী কোচের অধীনে দলে ফিরতে হলে প্রতিভাকে ছাপিয়ে পারফর্ম্যান্স এবং পেশাদারিত্বকেই মূলমন্ত্র করতে হবে ব্রাজিলের এই 'পোস্টার বয়'-কে।