দেশের চলমান জ্বালানি সংকট (Energy Crisis) নিরসন এবং জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহের (Demand and Supply) মধ্যে স্থিতিশীল ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে পেট্রোবাংলা (Petrobangla) গ্যাস অনুসন্ধানে (Gas Exploration) এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (Petrobangla) দেশের বিভিন্ন ব্লকে অনুসন্ধান ও নতুন কূপ খনন (Well Drilling) কার্যক্রম জোরদার করেছে এবং আগামী ২০২৬-২৮ সালের মধ্যে ১০০টি নতুন কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
গতকাল বুধবার (১২ নভেম্বর) পেট্রোবাংলা থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
কূপ খনন কর্মপরিকল্পনা ও নতুন সন্ধান
পেট্রোবাংলা থেকে ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে ৫০টি এবং ২০২৬-২৮ সালের মধ্যে ১০০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার (Workover) কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে:
১. জামালপুরে বাণিজ্যিক গ্যাস: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (BAPEX) থেকে জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপ খননের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো ব্লক-৮ এ বাণিজ্যিক গ্যাসের (Commercial Gas) সন্ধান পাওয়া গেছে। জামালপুর স্ট্রাকচারে গ্যাসের রিজার্ভের (Gas Reserve) পরিমাণ মূল্যায়নের জন্য আরও দুটি (একটি উন্নয়ন ও একটি অনুসন্ধান) কূপ খননের পরিকল্পনাধীন আছে। ২. হরিপুরে তেলের উপস্থিতি: সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (SGFL) অধীনে হরিপুর গ্যাস ফিল্ডে সিলেট-১০ কূপ খননের সময় ওই এলাকায় জ্বালানি তেলের (Crude Oil) উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন নিশ্চিত হওয়ার লক্ষ্যে সিলেট-১২ তেল কূপ খননের কাজ চলমান রয়েছে। ৩. ভোলায় বৃহৎ পরিকল্পনা: দেশের সর্ববৃহৎ দ্বীপ ভোলা এলাকায় প্রাপ্ত গ্যাসের মজুত ও বিস্তৃতি নির্ণয়ের লক্ষ্যে আরও ১৯টি নতুন কূপ খননের (New Well Drilling) কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভোলা এলাকায় প্রাপ্ত গ্যাস সেখানে প্রতিষ্ঠিতব্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব-এ (Industrial Hub) সরবরাহ করা হবে, যা দক্ষিণাঞ্চলের কর্মসংস্থানসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নে (Economic Development) যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
গভীর কূপ খনন এবং সাইসমিক ডাটা বিশ্লেষণ
আবিষ্কৃত ভূতাত্ত্বিক স্ট্রাকচারের (Geological Structure) গভীর স্তরে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত মূল্যায়নের জন্য বিভিন্ন গ্যাস ফিল্ডে গভীর কূপ খননের (Deep Well Drilling) কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (BGFCL) অধীনে তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ডে দুটি এবং বাপেক্সের অধীনে শ্রীকাইল গ্যাস ফিল্ড ও মোবারকপুর স্ট্রাকচারে দুটিসহ মোট চারটি গভীর কূপ খননের কাজ চলছে।
পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন ব্লকে নতুন নতুন লিড/প্রসপেক্টসহ খননযোগ্য কূপের লোকেশন চিহ্নিতকরণের জন্য বাপেক্স, বিজিএফসিএল ও এসজিএফএল-এর স্ব-স্ব ব্লকে সাইসমিক ডাটা আহরণ ও বিশ্লেষণ (Seismic Data Acquisition and Analysis) কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
রিগ সংখ্যা বৃদ্ধি ও গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্য
কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সময়াবদ্ধ পরিকল্পনার মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য বাপেক্সের নিজস্ব পাঁচটি রিগ (Drilling Rig) এবং চুক্তিতে নিয়োজিত ঠিকাদারের তিনটি রিগসহ মোট আটটি রিগের মাধ্যমে বর্তমানে কূপ খনন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পেট্রোবাংলা আশা করছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে বাপেক্সের পাঁচটি রিগ এবং টার্ন কি (Turnkey) পদ্ধতিতে নিয়োজিত ঠিকাদারের ছয়টি রিগসহ মোট ১১টি রিগের মাধ্যমে একই সঙ্গে ১১টি কূপের খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম চলমান থাকবে।
বাপেক্স থেকে খনন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে পাঁচটি রিগের পাশাপাশি আরও দুটি নতুন রিগ ক্রয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই ১১টি কূপের খনন কার্যক্রম সফলভাবে সমাপ্ত হলে আনুমানিক দৈনিক ১৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট (MMCFD) গ্যাসের সংস্থান নিশ্চিত করা যাবে। ফলস্বরূপ, দেশের নিজস্ব গ্যাস ক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদিত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনীতিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে।