• জাতীয়
  • ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে, জানালেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে, জানালেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে, জানালেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

জুলাই জাতীয় সনদের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ব্যর্থতার পর অন্তর্বর্তী সরকারের চূড়ান্ত ঘোষণা।

এক মঞ্চে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট: প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদের (July National Charter) সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের গণভোট (Referendum) একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বেলা আড়াইটায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের (Adviser Council) বৈঠক শেষে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। প্রধান উপদেষ্টার এই ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (BTV), বিটিভি নিউজ এবং বিটিভি ওয়ার্ল্ডে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ: গণভোটের পদ্ধতি

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর ভাষণে জুলাই জাতীয় সনদ বা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেন। এই পদ্ধতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গত ২৮ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দুটি বিকল্প সুপারিশ জমা দিয়েছিল।

ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী:

১. বিশেষ আদেশ জারি: সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে একটি বিশেষ আদেশ (Special Ordinance) জারি করা হবে এবং তার ভিত্তিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

২. সংসদের ভূমিকা: গণভোটে প্রস্তাব পাস হলে আগামী সংসদ একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ (Constitution Reform Council) হিসেবে কাজ করবে এবং ২৭০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে।

৩. স্বয়ংক্রিয় সংযোজন: ঐকমত্য কমিশনের একটি সুপারিশে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদ এটি করতে ব্যর্থ হলে সংস্কার প্রস্তাবগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে (Automatically) সংবিধানে যুক্ত হয়ে যাবে।

রাজনৈতিক ঐকমত্যের ব্যর্থতা ও সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুরু থেকেই তীব্র মতপার্থক্য ছিল। ঐকমত্য কমিশন সুপারিশ জমা দেওয়ার পর এই মতপার্থক্য আরও তীব্রভাবে সামনে আসে।

এই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজ উদ্যোগে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে সরকারকে একটি ঐক্যবদ্ধ দিকনির্দেশনা (Unified Direction) দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে, রাজনৈতিক দলগুলো এই বিষয়ে কোনো ঐক্যবদ্ধ দিকনির্দেশনা দিতে পারেনি, এমনকি নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসতেও ব্যর্থ হয়।

রাজনৈতিক দলগুলোর এই ব্যর্থতার পর সরকার নিজেই জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (Final Decision) গ্রহণ করল। এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের (Political Reform) ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।