• রাজনীতি
  • ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে উৎসাহিত করছে অযৌক্তিক দাবিদাররা; শেখ হাসিনার বিচার ঠেকানো যাবে না, হুঁশিয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে উৎসাহিত করছে অযৌক্তিক দাবিদাররা; শেখ হাসিনার বিচার ঠেকানো যাবে না, হুঁশিয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের।

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে উৎসাহিত করছে অযৌক্তিক দাবিদাররা; শেখ হাসিনার বিচার ঠেকানো যাবে না, হুঁশিয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের।

‘লকডাউন’ কর্মসূচি: আ.লীগের জ্বালাও-পোড়াও সংস্কৃতি

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন যে, দেশের কিছু রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড ও ‘অযৌক্তিক, বিভ্রান্ত’ দাবির কারণে ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ উৎসাহিত হচ্ছে। এদের সুযোগ কাজে লাগিয়েই নিষিদ্ধ দলটি ‘লকডাউন’ কর্মসূচি দিচ্ছে এবং জ্বালাও-পোড়াওয়ের মাধ্যমে মানুষ পুড়িয়ে মারছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, “লকডাউনের নামে আওয়ামী লীগ মানুষ পুড়িয়ে মারছে। এটা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না।” তিনি দাবি করেন, গত তিনদিনে ‘ফ্যাসিস্টের দোসররা’ সারাদেশে বাসে-ট্রেনে আগুন দিয়েছে, যার ফলে বাসের ড্রাইভার মারা গেছেন। রিজভীর ভাষ্যমতে, “এটাই আওয়ামী লীগের চরিত্র। যখন ক্ষমতায় ছিল তখনো বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা এভাবে আগুন জ্বালিয়ে দোষ চাপাতো বিএনপির ঘাড়ে।” অবৈধ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও শেখ হাসিনার বিচার প্রতিহত করতে লকডাউনের নামে আওয়ামী লীগ মানুষ পুড়িয়ে মারছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জুলাই সনদের আন্দোলন

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘গভীর সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো—একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, যার মাধ্যমে দেশের প্রকৃত মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট নিয়ে রাজপথে নেমেছে। আর সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে পতিত স্বৈরাচার ।” তাঁর মতে, এই দলগুলোর ‘বিভ্রান্ত দাবির’ কারণেই আওয়ামী লীগ উৎসাহিত হচ্ছে।

শেখ হাসিনার বিচার ও লুটপাটের অভিযোগ

রুহুল কবির রিজভী আওয়ামী লীগ সরকারের গত সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলকে স্বৈরতন্ত্রের আমল হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, “সর্বশেষ চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শত শত ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যা করেছে। গুলি করার নির্দেশ দিয়েছে শেখ হাসিনা নিজেই। তাই শেখ হাসিনার বিচার হতেই হবে। লকডাউন দিয়ে হাসিনার বিরুদ্ধে রায় বন্ধ করা যাবে না।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটপাট ও পাচার করেছেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপিরা লন্ডন, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটন ও কানাডার বেগমপাড়ায় জনগণের ‘ঘামের টাকা’ চুরি করে বিলাসবহুল সম্পত্তি তৈরি করেছেন।

আসন্ন নির্বাচন ও দলীয় ঐক্যের আহ্বান

রিজভী দাবি করেন, দেশের জনগণ অনেক আগেই এই ‘ভাইরাস’ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ‘লকডাউন’ দিয়ে বসে আছে। এখন পতিত স্বৈরাচার দেশের বাইরে বসে যতই লকডাউনের কর্মসূচি দিক, কোনো লাভ হবে না।

আসন্ন নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি তিনি দলীয় ঐক্যের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “মনোনয়ন নিয়ে ভেতরে আলোচনা হতে পারে, কিন্তু বাইরে যেন বিভক্তি না দেখা দেয়। আমাদের লক্ষ্য—ব্যক্তি নয়, ধানের শীষের বিজয়। এই বিজয়ের সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র জড়িত।”