• জীবনযাপন
  • প্রেমে পড়লে পুরুষ কেন ‘অন্ধ’ হন? ডোপামিন নয়, ‘ফিনাইলিথিলামাইন’ (PEA) নামক এই রাসায়নিকই কি আসক্তির মূল কারণ?

প্রেমে পড়লে পুরুষ কেন ‘অন্ধ’ হন? ডোপামিন নয়, ‘ফিনাইলিথিলামাইন’ (PEA) নামক এই রাসায়নিকই কি আসক্তির মূল কারণ?

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
প্রেমে পড়লে পুরুষ কেন ‘অন্ধ’ হন? ডোপামিন নয়, ‘ফিনাইলিথিলামাইন’ (PEA) নামক এই রাসায়নিকই কি আসক্তির মূল কারণ?

ভালোবাসার তীব্রতা কীভাবে পুরুষের মস্তিষ্কে 'কেমিকেল এক্সপ্লোশন' ঘটায়—জানুন নিউরোসায়েন্স (Neuroscience) কী বলছে।

প্রেমে পড়া একজন ব্যক্তির জীবনের অন্যতম আনন্দময় মুহূর্তের সূচনা করে। প্রথম দেখা, ভালো লাগা ও ধীরে ধীরে ভালোবাসার সম্পর্কের জন্ম—এই পুরো প্রক্রিয়াটিই চলে মস্তিষ্কের জটিল রাসায়নিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার (Neurochemical Reactions) মাধ্যমে। কথায় আছে, প্রেমে পড়লে মানুষ অন্ধ হয়ে যায়—এই ‘অন্ধত্ব’ আসলে সঙ্গীর ওপর বিশ্বাস, আকর্ষণ ও ভালোবাসার দৃঢ়তাকে বোঝায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, যখন কোনো পুরুষ প্রেমে পড়েন, তখন তাঁর মস্তিষ্কে এক ধরনের 'কেমিকেল ককটেল' তৈরি হয়, যা আবেগকে তীব্র করে তোলে। এই প্রক্রিয়ায় পুরুষের মধ্যে বেশ কিছু নাটকীয় পরিবর্তন আসে। জেনে নিন কীভাবে ভালোবাসা তাঁদের মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে এবং তারা কেন 'আবেগে অন্ধ' হন:

১. আসক্তি ও তীব্র আকর্ষণের প্রধান কারণ: ফিনাইলিথিলামাইন (PEA)

সাধারণত ডোপামিনকে প্রেমের মূল কারণ হিসেবে ধরা হলেও, প্রাথমিক আকর্ষণ এবং তীব্র আসক্তির জন্য ফিনাইলিথিলামাইন ( Phenylethylamine Phenylethylamine বা PEA PEA ) নামক একটি রাসায়নিকের উৎপাদন বেড়ে যাওয়া বিশেষভাবে দায়ী।

আসক্তি সৃষ্টি: PEA PEA একটি প্রাকৃতিক উদ্দীপক (Natural Stimulant), যা অ্যাম্ফিটামিনের (Amphetamine) মতো একই ধরনের প্রভাব ফেলে। এই রাসায়নিক মানুষের মধ্যে প্রেমের তীব্র আসক্তি (Addiction) বাড়ায়, যার ফলে পুরুষরা সঙ্গীর চিন্তা থেকে সহজে বেরিয়ে আসতে পারেন না।

ওভারল্যাপিং রিঅ্যাকশন: মস্তিষ্কের যে 'নিউরোকেমিক্যাল' প্রতিক্রিয়া মাদকাসক্তি সৃষ্টি করে, প্রেমের ক্ষেত্রেও মস্তিষ্কের সেই একই 'রিওয়ার্ড সিস্টেম' (Reward System)-এর ক্ষেত্রগুলোতে ওভারল্যাপিং প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এ কারণেই এই আসক্তি এত শক্তিশালী হয়।

২. ডোপামিনের বিস্ফোরণ ও আনন্দের অনুভূতি (Dopamine Rush)

PEA PEA -এর প্রভাবে মস্তিষ্কে ডোপামিনের (Dopamine) বিপুল নিঃসরণ ঘটে, যা অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত একটি নিউরোট্রান্সমিটার (Neurotransmitter)।

শারীরিক প্রভাব: এই হরমোনের কারণেই পুরুষরা অত্যাধিক আনন্দ এবং সুখ অনুভব করেন। বেশি পরিমাণে ডোপামিন হরমোন নিঃসরণের ফলে পুরুষরা তাঁদের সঙ্গীর প্রতি খুব সহজেই আকৃষ্ট হন। এমনকি সঙ্গীর সামনে থাকলে তাঁদের হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় এবং হাত-পায়ের তালুতে ঘাম ঝরে (Physiological Arousal)।

৩. অক্সিটোসিনের প্রভাবে খুঁত চোখে পড়ে না

প্রেমে পড়লে পুরুষের মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন (Oxytocin)—যা 'লাভ হরমোন' বা 'বন্ডিং হরমোন' নামেও পরিচিত—তার নিঃসরণ বাড়ে। এই হরমোন বন্ধন ও বিশ্বাস তৈরি করে।

'অন্ধত্ব'-এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা: যখন কোনো পুরুষ গভীরভাবে প্রেমে পড়েন, তখন এই রাসায়নিকগুলির প্রভাবে তিনি সঙ্গীর প্রেমে সম্পূর্ণ মগ্ন হয়ে যান। এ কারণে তাঁর সঙ্গীর কোনো খুঁত, দুর্বলতা বা ভুল সহজে চোখে পড়ে না। মস্তিষ্কের যে অঞ্চলগুলি নেতিবাচক বিচার (Negative Judgement) এবং সমালোচনার জন্য দায়ী, সেগুলি অক্সিটোসিন ও ডোপামিনের প্রভাবে সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় (Deactivated) হয়ে যায়। এর ফলেই পুরুষরা আবেগের কাছে ‘অন্ধ’ হয়ে যান।

৪. ইতিবাচকতা বৃদ্ধি ও স্মৃতি ভুলে যাওয়া

প্রেমের তীব্রতা পুরুষের মধ্যে সঙ্গী সম্পর্কে ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনা (Positive Thinking) এবং অনুভূতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

মানসিক পরিবর্তন: তারা সম্পর্কে সর্বদা ইতিবাচক মনোভাব (Optimistic Attitude) প্রকাশ করেন। এমনকি অতীতের কষ্টকর বা ট্রমাটিক স্মৃতিও (Traumatic Memory) তাঁরা সঙ্গীর সংস্পর্শে এলে সহজেই ভুলতে পারেন, কারণ প্রেমের অনুভূতি মস্তিষ্কের 'পেইন সেন্টার' (Pain Center)-কে আংশিকভাবে দমন করে।

৫. অফুরন্ত সাহস ও সামাজিক চাপ উপেক্ষা

প্রেমের তীব্র রাসায়নিক প্রভাব পুরুষদের সাহসী করে তোলে। তাঁরা সব ভয়কে জয় করা শিখে নেন।

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা: সমাজ বা পরিবারের শত বাঁধা-বিপত্তি বা সামাজিক চাপ (Social Stigma) মোকাবেলা করে হলেও পুরুষরা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে প্রস্তুত থাকেন। সঙ্গীকে হারানোর ভয় (Fear of Loss) তাঁদের অফুরন্ত সাহস জোগায় এবং সম্পর্কের সুরক্ষায় যেকোনো সমস্যার সম্মুখীন হতেও তারা প্রস্তুত থাকেন। সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা (Social Acceptance) নয়, বরং নিজেদের মধ্যেকার বন্ধনই তখন তাদের কাছে মুখ্য হয়ে ওঠে।