• খেলা
  • বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করল ফ্রান্স, রোনালদোর লাল কার্ডের রাতে পর্তুগালের নাটকীয় পতন

বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করল ফ্রান্স, রোনালদোর লাল কার্ডের রাতে পর্তুগালের নাটকীয় পতন

খেলা ১ মিনিট পড়া
বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করল ফ্রান্স, রোনালদোর লাল কার্ডের রাতে পর্তুগালের নাটকীয় পতন

এমবাপ্পের জোড়া গোলে ইউক্রেনকে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের মূলপর্বে দিদিয়ের দেশমের দল, অন্যদিকে আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরে বাছাইপর্বের সমীকরণ জটিল করল পর্তুগাল।

ফুটবল মাঠে নাটকীয়তার রাত। একদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পের অসাধারণ নৈপুণ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করল ফ্রান্স, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথমবার লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তার দল পর্তুগালও ডুবল আয়ারল্যান্ডের কাছে অপ্রত্যাশিত হারে। ইউরোপীয় বাছাইপর্বের এই রাত যেন দুই ভিন্নধর্মী গল্পের জন্ম দিল, যেখানে এক পরাশক্তির জয়োল্লাস এবং অন্যটির পতনের দৃশ্যপট রচিত হলো।

লাল কার্ডের লজ্জা ও অপ্রত্যাশিত হার

ডাবলিনের আভিভা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে পর্তুগালকে ২-০ গোলে হারিয়ে অঘটন ঘটিয়েছে আয়ারল্যান্ড। ২০০৫ সালের পর পর্তুগালের বিরুদ্ধে এটিই তাদের প্রথম জয়। ম্যাচের শুরু থেকেই পর্তুগাল বল দখলে এগিয়ে থাকলেও কাজের কাজ করতে ব্যর্থ হয়। উল্টো প্রথমার্ধেই দুই গোল হজম করে বসে তারা।

ম্যাচের ১৭ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে লিয়াম স্কেলসের হেড খুঁজে পায় ট্রয় প্যারটকে, যিনি নিখুঁত হেডে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন।এরপর ৪৫ মিনিটে ডারা ও'শিয়ার পাস থেকে দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন প্যারট।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টারত পর্তুগালের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয় রোনালদোর লাল কার্ড। ম্যাচের ৬১তম মিনিটে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় ডারা ও'শিয়াকে কনুই দিয়ে আঘাত করার কারণে রেফারি প্রথমে হলুদ কার্ড দেখালেও, পরে VAR প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত নেন।এটি তার বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ২২৫টি ম্যাচের মধ্যে প্রথম লাল কার্ড, যদিও ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে এটি তার ১৩তম। দশজনের দল নিয়ে পর্তুগাল আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি, ফলে একরাশ হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। এই হারের পরেও 'এফ' গ্রুপের শীর্ষে থাকলেও, সরাসরি বিশ্বকাপে যাওয়ার পথ কঠিন হলো রোনালদোর দলের জন্য।

এমবাপ্পের দাপটে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফ্রান্স

প্যারিসের পার্ক দেস প্রিন্সেসে ছিল ফরাসি ফুটবলের জয়গান। ইউক্রেনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সমীকরণ ছিল সহজ—জিতলেই বিশ্বকাপ। দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা শুধু জেতেনি, রীতিমতো গোল উৎসব করে ৪-০ ব্যবধানে ইউক্রেনকে উড়িয়ে দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের মূলপর্ব নিশ্চিত করেছে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে ইউক্রেনের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি ফ্রান্স। তবে দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় এমবাপ্পে শো। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে একটি দর্শনীয় 'পানেনকা' শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ফরাসি অধিনায়ক।৭৬ মিনিটে চমৎকার ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মাইকেল ওলিসে। ৮৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে, যা ছিল তার ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৪০০তম ক্যারিয়ার গোল। এই গোলের মাধ্যমে ফ্রান্সের হয়ে তার আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৫৫, যা ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা অলিভিয়ে জিরুদের (৫৭) থেকে মাত্র দুটি কম।ম্যাচের ৮৮ মিনিটে এমবাপ্পের পাস থেকে দলের চতুর্থ ও নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলটি করেন বদলি খেলোয়াড় হুগো একিটিকে। এই দাপুটে জয়ে 'ডি' গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে টানা অষ্টমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিল ২০১৮-এর বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

শেষ মুহূর্তের গোলে আশা বাঁচিয়ে রাখল ইতালি

অন্য ম্যাচে মলদোভার বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে ইতালি। ম্যাচের ৮৮ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য থাকার পর শেষ মুহূর্তে জিয়ানলুকা মানচিনি এবং ফ্রান্সেসকো পিও এসপোসিটোর গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় পায় আজ্জুরিরা। তবে এই জয়েও সরাসরি বিশ্বকাপে যাওয়ার আশা প্রায় শেষ ইতালির। গ্রুপের অন্য ম্যাচে নরওয়ে বড় জয় পাওয়ায় গোল পার্থক্যে বেশ পিছিয়ে তারা। সম্ভবত প্লে-অফ (Play-off) খেলেই তাদের বিশ্বকাপের টিকিট অর্জন করতে হবে।