রাজধানী ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বিকেল থেকে মোট ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্যকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয়।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার লক্ষ্যে এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা নাশকতামূলক কার্যকলাপ প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যরা অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
কঠোর নিরাপত্তা বলয় শুক্রবার বিকেল থেকেই ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, প্রধান সড়ক এবং স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলোর আশেপাশে বিজিবি সদস্যদের টহল দিতে দেখা যায়। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ ঢাকার নিকটবর্তী জেলাগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আকস্মিক এই সেনা মোতায়েনের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল দেখা গেলেও, এটি মূলত একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় ঘিরে সম্ভাব্য উত্তেজনা মোকাবেলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকার যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টাকে শূন্য সহনশীলতার সঙ্গে মোকাবেলা করার নীতি গ্রহণ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে এমন কোনো কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতেই এই আগাম ব্যবস্থা।
বিজিবি সদস্যরা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নিয়ে নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং সন্দেহভাজন যেকোনো কর্মকাণ্ডের ওপর কড়া নজরদারি রাখবে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অক্ষুণ্ণ রাখা।