অসম্পূর্ণ আসন ও জোটের সঙ্গে চূড়ান্ত পর্যালোচনা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি গত ৩ নভেম্বর ২৩৭টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছিল। তবে কৌশলগত কারণে ৬৩টি আসন ফাঁকা রাখা হয়। পরবর্তীতে মাদারীপুর-১ আসনের ঘোষিত প্রার্থী কামাল জামান মোল্লার মনোনয়নও স্থগিত করে দলটি। এই ফাঁকা আসনগুলো নিয়েই গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জোট শরিকদের সঙ্গে নিয়মিত ও নিবিড় আলোচনা চালাচ্ছে বিএনপি।
দলীয় সূত্র থেকে জানা যায়, শরিক দলগুলোর জমা দেওয়া প্রার্থী তালিকা ইতোমধ্যে পর্যালোচনা করে বিএনপি একটি Shortlist (সংক্ষিপ্ত তালিকা) তৈরি করেছে। এই প্রার্থীরা স্থানীয় পর্যায়ে কতটা জনপ্রিয়, তাদের সাংগঠনিক অবস্থান (Organizational Position) কেমন, বিজয়ের সম্ভাবনা (Winning Possibility) কতটা এবং মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা—এই সব Key Performance Indicators (KPI) যাচাই করা হচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংশোধিত আরপিও (RPO) অনুযায়ী শরিকদের তাদের নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। এই বাধ্যবাধকতাও আসন বণ্টন (Seat Sharing) প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনার মধ্যে রাখা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বৈঠক ও পূর্ণাঙ্গ ঘোষণার লক্ষ্য
বিএনপি নেতারা নিশ্চিত করেছেন, চলতি নভেম্বর মাসের মধ্যেই ফাঁকা থাকা ৬৩টি আসনে দলীয় ও জোটের মনোনয়ন (Nomination) চূড়ান্ত করা হবে। দলের লক্ষ্য হলো, তপশিল ঘোষণার আগেই পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা।
এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুব শিগগিরই জোটের প্রধান নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক (Virtual Meeting) করবেন। এই বৈঠকের আলোচনার ওপর নির্ভর করে জোট ও বিএনপির প্রার্থী একই সঙ্গে অথবা ধাপে ধাপে (Phase by Phase) ঘোষণা করা হতে পারে।
অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসনে উদ্যোগ (Internal Conflict Resolution)
অন্যদিকে, ঘোষিত ২৩৭টি আসনের কয়েকটি ক্ষেত্রে স্থানীয় দ্বন্দ্ব (Local Conflict) তৈরি হওয়ায় সেই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয়েছে বিএনপি। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতাদের এই বিরোধ মিটিয়ে আনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোথাও সমাধান না হলে মনোনীত প্রার্থী এবং মনোনয়নপ্রত্যাশীকে (Aspirants) ঢাকায় ডেকে এনে সমঝোতা করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
উদাহরণস্বরূপ, গত শুক্রবার কুমিল্লা-৯ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই ধরনের সমঝোতা করেন। সেখানে মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম এবং মনোনয়নপ্রত্যাশী সামিরা আজিম দোলার মধ্যকার বিরোধ মিটে যায়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মিত্রদের জন্য যেসব আসন বিএনপি ছাড়বে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। Alliance Partner-রা যেমন ঘোষণা দেবে, বিএনপিও তেমনই ঘোষণা করবে।
জোট শরিকদের দ্রুত ঘোষণার তাগিদ
জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট এবং ১২ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বিএনপির কাছে দ্রুত মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাদের যুক্তি হলো, যেহেতু বিএনপি ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, প্রতিদ্বন্দ্বীরা ইতোমধ্যে প্রচারণায় (Campaign) নেমে পড়েছে। ফলে শরিকদের ক্ষেত্রেও আর দেরি না করাই উত্তম। বৈঠকে সংশোধিত আরপিওর বাস্তব প্রয়োগ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বর্তমানে জামায়াতের বাইরের ইসলামী এবং বামপন্থি কয়েকটি দলকে নিয়ে বৃহত্তর নির্বাচনী জোট গঠনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বিএনপি। সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী, নিবন্ধন থাকা এই দলগুলোকে নিজেদের দলীয় প্রতীকেই নির্বাচন করতে হবে।
আসন ছাড়ের কৌশল (Seat Allocation Strategy)
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি ৫৯টি আসন শরিকদের দিয়েছিল। তবে, এবার রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় ২৫–৩০টি আসন ছাড়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতকে এবার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখায়, অনেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় শরিকদের আসন ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপি আরও সতর্ক। যদিও জোট বড় হলে আসন সংখ্যা বাড়তে পারে, তবে প্রধান লক্ষ্য হলো বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাময় প্রার্থীকে (Potential Winning Candidate) অগ্রাধিকার দেওয়া।