খালের ওপর নির্মিত সেতুর দুই প্রান্তই বিলীন, জরাজীর্ণ সেতুর নিচে দিয়ে চলছে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত; জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতায় স্থানীয়দের মধ্যে সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা। ২০ বছরের অপেক্ষার যন্ত্রণা নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের তীব্র ক্ষোভ।
২০ বছর ধরে সেতু আছে, সংযোগ সড়ক নেই
নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের দক্ষিণ তারানগর গ্রামের খালের ওপর নির্মিত একটি সেতুর সংযোগ সড়ক (Link Road) দীর্ঘ দুই দশক ধরে বিলীন হয়ে আছে। সংযোগ সড়ক না থাকায়, কার্যত সেতুটি যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকাই রাখতে পারছে না। দক্ষিণ তারানগর গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ খালের ওপর নির্মিত সেতুটির সংযোগ সড়ক (Approach Road) গত বিশ বছরেও সংস্কার বা পুনঃনির্মাণ করা হয়নি। প্রায় দুই দশক আগে স্থানীয়দের যোগাযোগমাধ্যম সহজ করার জন্য সেতুটি নির্মাণ করা হলেও, এর কার্যকারিতা বছরখানেকের মধ্যেই বিলীন হয়ে যায়।
জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে World Vision Bangladesh নামের একটি সংস্থা এই সেতুটি নির্মাণ করে। নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই উজান থেকে আসা ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলের তো ফলে প্রায় সাতটি গ্রামের ২০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে এই অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করার লক্ষ্যে World Vision Bangladesh (ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ)-এর উদ্যোগে দক্ষিণ তারড়ে এর উভয় পার্শ্বের সংযোগ সড়ক পুরোপুরি ভেঙে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকে সেতুটি তার উপযোগিতা হারায় এবং অন্তত সাতটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। এত বছর পেরিয়ে গেলেও এই বিশালানগর গ্রামের খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। নির্মাণের পর অল্প কিছুদিন স্থানীয়রা এটি ব্যবহার করতে পারলেও, এর কয়েক মাসের মধ্যেই উজান থেকে আসা ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে সেতুর দুই প্রান্তের সংযোগ সড়ক সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে যায় সংখ্যক জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ লাঘবে কোনো কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
জরাজীর্ণ সেতু: দুর্ভোগের চিত্র
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, সেতুটির পশ্চিম পার্শ্বে সংযোগ সড়কের কোনো অস্তিত্বই নেই। দীর্ঘকাল ধরে অযত্নে। সেই থেকে শুরু হওয়া জনদুর্ভোগ আজও লাঘব হয়নি।
সাত গ্রামের ২০ হাজার মানুষের ভোগান্তি
এই Vital Infrastructure (গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো) দিয়ে লেংগুরা ইউনিয়নের গৌরীপুর, থাকায় পুরো সেতুটি এখন জরাজীর্ণ অবস্থায়। সেতুর বিভিন্ন স্থান থেকে লোহার রড বের হয়ে গেছে এবং পুরো সেতুটির উপরে শেওলা জমে আছে। দূর থেকে সেতুটিকে একতলা পাকা ভবনের মতো দেখালেও, এর Structural Integrity ( তারানগর, শিবপুর, লেংগুরা, উদাপাড়াসহ অন্তত সাতটি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। উপজেলা সদর কিংবা নিকটস্থ শহরে যাওয়ার একমাত্র পথও এটি। প্রতিদিন এই পথে শতাধিক শিক্ষার্থীকে ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেকাঠামোগত অখণ্ডতা) নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই সেতুটি লেংগুরা ইউনিয়নের গৌরীপুর, তারানগর, শিবপুর, লেংগুরা, উদাপজে যাতায়াত করতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে তারা কোনোমতে সেতুর নিচের ধানক্ষেতের ওপর দিয়ে কিংবা বিকল্প পথে চলাচল করতে পারলেও, বর্ষাকালে খালের পানি বেড়ে গেলে দুর্ভোগের শেষ থাকে নাাড়াসহ অন্তত সাতটি গ্রামের মানুষের জন্য উপজেলা সদর ও শহরে যাতায়াতের একমাত্র পথ ছিল। প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থী এই পথ ব্যবহার করে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে।
স্থানীয় কৃষক কামাল মিয়া বলেন, "সেতুতে ওঠার। তখন কার্যত যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এত বছর ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তায় এই সমস্যা সমাধান না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জরাজীর্ণ সেতুর করুণ কোনো সড়ক নেই। বর্ষাকালে আমরা বাঁশের সাঁকো দিলেও পাহাড়ি ঢলে তা আবার ভেঙে যায়। শুষ্ক মৌসুমে ধানক্ষেতের ওপর দিয়েই কোনো রকমে চলাচল করতে হয়। প্রায়ই লোক এসে মাপজোক করে যায় চিত্র
সরেজমিনে দেখা যায়, যে সেতুটি ২০ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল, সেটিও এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেতুর পশ্চিম পার্শ্বের সংযোগ সড়ক সম্পূর্ণ বিলীন। সেতুর বিভিন্ন অংশে রড বের হয়ে গেছে এবং পুরো সেতুটি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।" স্থানীয়দের প্রধান দাবি, দ্রুত এখানে সংযোগ সড়কসহ একটি নতুন এবং মজবুত সেতু নির্মাণ করা হোক।
এলজিইডির নতুন প্রস্তাবনা
দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশ শেওলায় ঢেকে আছে, দূর থেকে দেখলে এটিকে একতলা পাকা ভবনের মতো মনে হয়।
স্থানীয় কৃষক কামাল মিয়া বলেন, "সেতুতে ওঠার কোনো সড়ক নেই। বর্ষাকালে গ্রামবাসীরা মিলে বাঁশের সাঁকো দিল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, লেংগুরা ইউনিয়নের দক্ষিণ তারানগর গ্রামের খালের ওপর নতুন সেতু নির্মাণের জন্য একটি Proposal (প্রস্তাবনা) ইতোমধ্যেইলেও পাহাড়ি ঢলে তা প্রতি বছর ভেঙে যায়। শুষ্ক মৌসুমে আমরা ধানের ক্ষেতের ওপর দিয়ে হাঁটতে বাধ্য হই। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে একই চিত্র। মাঝে মাঝে লোক এসে মাপজোক করে যায়, কিন্তু কাজ আর শুরু হয় না।" ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুতই এই Infrastructure Development (অবকাঠামো উন্নয়ন)-এর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
তবে স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা, আরও কত বছর তাদের এই দুর্ভোগের সঙ্গে স্থানীয়দের মূল দাবি—জরুরি ভিত্তিতে এখানে সংযোগ সড়কসহ একটি নতুন ও মজবুত সেতু নির্মাণ করা হোক।
এলজিইডি-এর আশ্বাস: প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, "কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের দক্ষিণ তারানগর গ্রামের খালের ওপর নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা (Proposal) ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুতই Construction Work (নির্মাণ কাজ) শুরু করা হবে।"
তবে, ২০ বছর ধরে একই আশ্বাসে আটকে থাকা স্থানীয় জনগণ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান।