রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া অর্থনীতির মুক্তি নেই
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি গার্মেন্টস শিল্পে (Garments Industry) বিগত ১৭ বছর ধরে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন (Development) হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং রশিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (Managing Director) এম কফিল উদ্দিন আহমেদ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, একটি নির্বাচিত সরকার (Elected Government) ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত এই গভীর অর্থনৈতিক সংকট দূর হবে না।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর উত্তরা ক্লাবে ‘ব্যবসায়ী সংকট ও রপ্তানির নিম্নমুখী ধারা : উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। দেশের শীর্ষ রপ্তানিমুখী (Export-Oriented) খাতের শীর্ষ নেতা (Top Leaders) ও প্রতিনিধিরা এই সভায় উপস্থিত ছিলেন।
ব্যবসায়ীরাই অর্থনীতির ভিত্তি, সুরক্ষা জরুরি
এম কফিল উদ্দিন আহমেদ দেশের ব্যবসায়ীদের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, 'আমাদের দেশের অর্থনীতির ভিত্তিই হলেন ব্যবসায়ীরা। আমরা (ব্যবসায়ীরা) যদি শেষ হয়ে যাই, তাহলে দেশের অর্থনীতি (Economy) কখনো দাঁড়াতে পারবে না।'
তিনি আরও বলেন, বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে শিল্পখাত (Industrial Sector) নানামুখী চ্যালেঞ্জের (Challenges) সম্মুখীন হচ্ছে। এই সংকটের মূল কারণ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা (Political Instability) এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার (Democratic Process) অভাব। এই স্থবিরতা দেশের গ্রোথ রেট (Growth Rate) এবং বৈশ্বিক বাজার (Global Market)-এ বাংলাদেশের অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিএনপি'র অঙ্গীকার: তারেক রহমানের নেতৃত্বে শিল্পখাত পুনর্গঠন
দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিএনপি'র ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন দলের মহানগর উত্তর শাখার এই যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, বিএনপি আগামীতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসলে ব্যবসায়ীদের জন্য কাজ করা হবে।
তিনি জানান, 'আমাদের নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (Acting Chairman) তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের শিল্পখাতকে (Industrial Sector) নতুন করে সাজানো হবে। যারা অর্থনীতির জন্য কাজ করেন, তাদের জন্য আমি সবসময় কথা বলে যাব।' তিনি আরও যোগ করেন, এই পুনর্গঠনের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ (Foreign Investment) আকৃষ্ট করা এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধি (Export Growth) নিশ্চিত করাই হবে দলের প্রধান লক্ষ্য।
কফিল উদ্দিন আহমেদ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নিজের সংসদীয় আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়ে বলেন, 'আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে (ঢাকা-১৮ আসন) দল যদি আমাকে মনোনয়ন (Nomination) দেয় এবং আমি যদি সংসদে (Parliament) যেতে পারি, আমি ব্যবসায়ীদের স্বার্থে জোরালোভাবে কথা বলব।'
সভায় শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের উপস্থিতি
বিজিএমইএ (BGMEA)-এর সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভা শিল্পখাতের শীর্ষ স্টেকহোল্ডারদের (Stakeholders) উপস্থিতিতে গুরুত্ব লাভ করে। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ-এর বর্তমান সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিটিএমএ (BTMA)-এর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং বিজিবিএ (BGBA)-এর সভাপতি মোহাম্মদ পাভেলসহ রপ্তানিমুখী বিভিন্ন খাতের শীর্ষ নেতা (Top Leaders) ও প্রতিনিধিরা।
সভায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা শিল্পখাতের সকল সংকট (Crisis) থেকে উত্তরণে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা (Full Cooperation) এবং দ্রুত একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির জন্য সম্মিলিতভাবে আহ্বান জানান।