• জাতীয়
  • মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর 'দুই কৌশল', জানালো চিফ প্রসিকিউটর

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর 'দুই কৌশল', জানালো চিফ প্রসিকিউটর

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর 'দুই কৌশল', জানালো চিফ প্রসিকিউটর

'এক্সট্রাডিশন ট্রিটি' ও 'ইন্টারপোল'—এই দুই পথে পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করা যাবে, রায়ের পর ব্রিফিংয়ে জানালেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

ঐতিহাসিক রায় ও বিচারিক প্যানেল

জুলাই গণহত্যার মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দুটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (ICT) চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। গত সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে ঐতিহাসিক রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফিংকালে তিনি এই আইনি কৌশলগুলো বিশদভাবে তুলে ধরেন।

এর আগে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের প্যানেল এই গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করে। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, পলাতক আসামি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনীত তিনটি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

প্রথম কৌশল: ভারত-বাংলাদেশ বহিঃসমর্পণ চুক্তি

পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সম্পাদিত 'অপরাধীর বহিঃসমর্পণ চুক্তি' বা 'Extradition Treaty'-এর উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, "আমরা ইতিমধ্যেই বলেছি, যে দুজন আসামি পলাতক রয়েছেন, তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে রাষ্ট্র দুই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারেন। প্রথমত, ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত ২০১৩ সালের যে অপরাধীর বহিঃসমর্পণ চুক্তি, অর্থাৎ 'Extradition Treaty-2013' রয়েছে, সেই চুক্তি অনুযায়ী আমাদের এখানে যেহেতু মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তারা সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের বাংলাদেশ ভারত সরকারের কাছে ফেরত চাইবে।"

তিনি আরও যোগ করেন, "ভারত সরকার যদি আইনের শাসন (Rule of Law) ও ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়, তবে তারা সেই আসামিদের ফেরত প্রদান করবেন। তাদের বাংলাদেশে ফেরত আনার মাধ্যমে যে সাজা দেওয়া হয়েছে, তা কার্যকর করা সম্ভব হবে।"

দ্বিতীয় কৌশল: ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আসামিদের ফিরিয়ে আনার দ্বিতীয় প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা 'ইন্টারপোল' (Interpol)-কে ঘিরে আবর্তিত। তাজুল ইসলাম জানান, যেহেতু বাংলাদেশের একটি উপযুক্ত ট্রাইব্যুনাল থেকে তাদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে, সেহেতু ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাদের আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, "দ্বিতীয় যে প্রক্রিয়া আছে, সেটি হচ্ছে ইন্টারপোলের মাধ্যমে। তাদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে এনে সেই সাজা কার্যকর করা যেতে পারে।"

পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত পদক্ষেপ

এই দুটি প্রক্রিয়াই কার্যকর করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি স্পষ্ট করেন, এ ব্যাপারে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Home Ministry) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Foreign Ministry) সম্মিলিতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আইন ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

Tags: law enforcement sheikh hasina death sentence extradition treaty interpol tajul islam july genocide international crimes chief prosecutor bangladesh india