মৃত্যুদণ্ড রায়ে জনগণের স্বস্তি
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, আদালত কর্তৃক একটি মামলার রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর দেশের মানুষ স্বস্তি পেয়েছে। তাঁর মতে, এই ট্রাইব্যুনালের রায়ে নিহত, আহত ও পঙ্গু হয়ে যাওয়া ছাত্র-জনতার পরিবার খুশি। তিনি বলেন, যারা হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে এবং ইলিয়াস আলি, চৌধুরী আলম, সুমনদের মতো রাজনৈতিক কর্মীদের গুম করেছে, তাদের বিচার শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কলাতিয়া ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদল আয়োজিত একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। এই মন্তব্য মূলত সদ্য সমাপ্ত গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষিতে বিচারিক কার্যক্রমের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
হত্যার রাজনীতি ও ত্রাসের রাজত্বের অবসান
আমান উল্লাহ আমান তাঁর বক্তব্যে কঠোর সমালোচনা করে বলেন, যারা ৫৭ জন সাহসী সেনা অফিসারকে খুন করেছে, শাপলা চত্বরে নিরীহ মানুষের ওপর পাশবিক নির্যাতন করে হত্যা করেছে এবং ১৭ বছর ধরে গুম, খুন করে 'ত্রাসের রাজত্ব' কায়েম করেছিল, তাদের সবাইকে এমনভাবে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ফ্যাসিস্ট শাসনকে দায়ী করেন।
তিনি আরও বলেন, "আমি বলেছিলাম এ অনৈতিক সরকার, বিনা ভোটের এমপিদের জনগণ ধরে রাস্তায় নামিয়ে আনবে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ছাত্র-জনতা তাদের রাস্তায় নামিয়ে এনেছে।" তিনি দাবি করেন, জনগণের আক্রোশ থেকে বাঁচতে অনেকেই 'চোরের মতো পালিয়ে গেছে'। এই মন্তব্য দ্বারা তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, সরকারের পতন জনগণের প্রবল ইচ্ছার ফলেই সম্ভব হয়েছে।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিতি
কলাতিয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. সামিউল হকের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মো. ইলিয়াছ আহম্মেদের সঞ্চালনায় এই নবীনবরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, কলেজের অধ্যক্ষ মো. লিয়াকত আলী, গভর্নিং বডির সভাপতি মোহাম্মদ আলী অভি, ডা. আলিপুর পলাশ, কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন জাকিরসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।