ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কার্যালয়ের সামনে বিস্ফোরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর, ২০২৫) বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে ঢাকার নিম্ন আদালতের রেবতী ম্যানসন প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটে।
বিস্ফোরণের পরপরই ঢাকা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেন। সমিতির সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলম এবং সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তারা দৃঢ়ভাবে দাবি করেন, এটি ছিল ককটেল বিস্ফোরণ।
আইনজীবীদের অভিযোগ: অস্থিতিশীল করার চেষ্টা
ঢাকা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ এই ঘটনাকে আদালত প্রাঙ্গণ অস্থিতিশীল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা বলে অভিযোগ করেছেন। তাদের মতে, শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর একটি মহল আদালত প্রাঙ্গণে ভীতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, "আমি কার্যালয়ে মামলার বিষয়ে কাজ করছিলাম। হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরণের মতো প্রচণ্ড শব্দ শুনতে পাই। আমার মনে হয়, পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে, এ বিষয়ে তারা আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে।"
পুলিশের বক্তব্য: আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে পটকা
যদিও আইনজীবীরা এটিকে ককটেল বিস্ফোরণ বলছেন, তবে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান এই দাবি অস্বীকার করেছেন।
ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, "এটি ককটেল বিস্ফোরণ নয়। ভীতি (Terror/Intimidation) ছড়ানোর উদ্দেশ্যে পটকা জাতীয় কিছু ফোটানো হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।"
বিস্ফোরণের ঘটনায় আদালতপাড়ায় সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার জন্য তদন্ত শুরু করেছে।