কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় দুই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৮ জন নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে (Anti-Terrorism Act) দায়ের হওয়া একটি মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের (Interim Bail) মেয়াদ শেষে জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই আদেশ দেন।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে আসামিরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিনের আবেদন জানালে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বজলুর রশিদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কারাগারে প্রেরিত প্রভাবশালী নেতারা
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা যেসব নেতাকর্মীকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন, তাদের মধ্যে দুই জন ইউপি চেয়ারম্যান রয়েছেন। নিচে তাদের পদ-পরিচয় উল্লেখ করা হলো:
১. আব্দুর রাজ্জাক মিলন: থানাহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ২. মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু: রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি। ৩. উদয় শংকর বর্মণ: ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। ৪. বাচ্চু মিয়া: ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক। ৫. গওছুল আজম: রমনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ৬. হাফিজুর রহমান: উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য। ৭. নজরুল ইসলাম চান চৌধুরী: উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক। ৮. জাহিদ আনোয়ার পলাশ।
সন্ত্রাসবিরোধী মামলার প্রেক্ষাপট
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলাটি গত ৭ আগস্ট চিলমারী থানা পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) বাদী হয়ে দায়ের করেন। ওই সময় মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের মোট ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এই ৮ আসামি উক্ত মামলার অভিযুক্ত।
মামলা দায়ের হওয়ার পর অভিযুক্তরা উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন লাভ করেন। তবে নির্ধারিত সময় শেষে বুধবার তারা কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালতে আত্মসমর্পণের পর উভয় পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ শুনানির পরও আদালত তাদের জামিন আবেদন খারিজ করে দেন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আসামিপক্ষে আদালতে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন শাহীনুর ইসলাম ও নাদিরা সুলতানা। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পিপি বজলুর রশিদ।