• দেশজুড়ে
  • ইতালি যাওয়ার লোভে সর্বস্বান্ত: লিবিয়ায় মানব পাচারকারী মাফিয়াদের গুলিতে মাদারীপুরের ৩ যুবকের মৃত্যু

ইতালি যাওয়ার লোভে সর্বস্বান্ত: লিবিয়ায় মানব পাচারকারী মাফিয়াদের গুলিতে মাদারীপুরের ৩ যুবকের মৃত্যু

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ইতালি যাওয়ার লোভে সর্বস্বান্ত: লিবিয়ায় মানব পাচারকারী মাফিয়াদের গুলিতে মাদারীপুরের ৩ যুবকের মৃত্যু

ভালো জীবনের আশায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা; পাচারকারীদের গুলিতে নিহত হওয়ার পর তাদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে সহযাত্রীদের মাধ্যমে পরিবার জানতে পেরেছে।

ভালো জীবনের স্বপ্ন বুকে নিয়ে ভূমধ্যসাগর (Mediterranean Sea) পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় মানব পাচারকারী (Human Traffickers) মাফিয়াদের গুলিতে নিহত হয়েছেন মাদারীপুর জেলার তিন যুবক। ইঞ্জিনের নৌকায় করে ইতালির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার ঠিক পূর্বমুহূর্তে সশস্ত্র পাচারকারী চক্র গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তারা মারা যান।

নিহতদের পরিবার সহযাত্রীদের মাধ্যমে জানতে পারে, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর মাফিয়ারা তিন যুবকের লাশ সাগরে ফেলে দিয়েছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় মাদারীপুরের সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত ও পাচার প্রক্রিয়ার বিবরণ

নিহত তিন যুবকই মাদারীপুর জেলার বাসিন্দা:

১. ইমরান খান (২৮): সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের আদিত্যপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২. মুন্না তালুকদার (৩০): রাজৈর উপজেলার দুর্গাবদ্দী গ্রামের বাসিন্দা। ৩. বায়েজিত শেখ (২৯): ঘোষলাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।

নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, কিছুদিন আগে এই তিন যুবকই দালাল চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়া পাড়ি জমান। স্থানীয় মানব পাচারকারী শিপন খান তাদের এই বিপজ্জনক যাত্রার মূল সমন্বয়ক ছিলেন বলে অভিযোগ।

মুক্তিপণ ও অমানুষিক নির্যাতন

মাদারীপুর সদর উপজেলার হাজি মো. তৈয়ব আলীর ছেলে ইমরান খান গত ৮ অক্টোবর বাড়ি ছাড়েন। অভিযোগ রয়েছে, দালাল শিপন খান তাকে সরাসরি ইতালি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২২ লাখ টাকার চুক্তি করেন। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর পাচারকারীরা ইমরানকে আটকে রেখে ধারাবাহিক শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং পরিবারকে চাপ দিয়ে আরও ১৮ লাখ টাকা আদায় করে।

সবশেষে, ১ নভেম্বর ইমরানসহ অন্যদের একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তোলা হয়। এরপর একটি নির্জন এলাকায় মাফিয়ারা নির্বিচারে গুলি চালালে ইমরান ঘটনাস্থলেই নিহত হন। মঙ্গলবার তার মৃত্যু সংবাদ পরিবারের কাছে পৌঁছায়।

একই দিনে মুন্না তালুকদার ও বায়েজিত শেখও প্রায় একই প্রক্রিয়ায় মাফিয়াদের গুলিতে নিহত হন। এই দুই যুবকও দালালদের প্রলোভনে পড়ে লিবিয়ায় গিয়েছিলেন।

পরিবারের কান্না ও বিচার দাবি

তিন যুবকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে এলাকায় তীব্র শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিহত মুন্নার বাবা ইমারাত তালুকদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। দালাল বলেছিল কোনো সমস্যা হবে না। অথচ মাফিয়ারা আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে।” নিহত ইমরানের বাবা মো. তৈয়ব আলী খানও দোষী মাফিয়া চক্রের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

এদিকে, ঘটনার পর থেকে মূল দালাল হিসেবে অভিযুক্ত শিপন খানের পরিবার বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাদের বাড়িতে তালা ঝুলছে। যদিও শিপনের এক স্বজন ফোনে দাবি করেছেন যে, "এ ঘটনায় শিপনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।"

এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “লিবিয়ায় গুলিতে তিন যুবকের মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। নিহতদের পরিবার লিখিত অভিযোগ (Formal Complaint) দিলে আমরা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা (Legal Action) নেব। মানব পাচারকারী দালালদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

Tags: mediterranean sea human trafficking libya madaripur youth shot dead daunting journey illegal migration mafia gang