• আন্তর্জাতিক
  • নির্বাচনী শত্রুতা অতীত? নিউ ইয়র্কের 'কমিউনিস্ট' মেয়র মামদানির সঙ্গে ওভাল অফিসে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প

নির্বাচনী শত্রুতা অতীত? নিউ ইয়র্কের 'কমিউনিস্ট' মেয়র মামদানির সঙ্গে ওভাল অফিসে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
নির্বাচনী শত্রুতা অতীত? নিউ ইয়র্কের 'কমিউনিস্ট' মেয়র মামদানির সঙ্গে ওভাল অফিসে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প

তীব্র বিরোধিতার পর নাটকীয় মোড়। শহরের তহবিল, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনার জন্য হোয়াইট হাউসে মুখোমুখি হচ্ছেন দুই বিপরীত মেরুর রাজনীতিবিদ।

রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়ে অবশেষে আলোচনার টেবিলে বসতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউ ইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি। নির্বাচনী প্রচারে যাকে 'কমিউনিস্ট' বলে আক্রমণ করেছিলেন এবং শহরের কেন্দ্রীয় তহবিল আটকে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, সেই মামদানির সঙ্গেই হোয়াইট হাউসের ঐতিহ্যবাহী ওভাল অফিসে বৈঠক করবেন ট্রাম্প। এই ঘোষণা দুই নেতার সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত নাকি নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের সূচনা, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার (২১ নভেম্বর) এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ নিশ্চিত করেছেন।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের ঘোষণা নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে ট্রাম্প পোস্টে লেখেন, "নিউ ইয়র্ক সিটির কমিউনিস্ট মেয়র জোহরান কোয়ামে মামদানি একটি বৈঠকের জন্য অনুরোধ করেছেন। আমরা একমত হয়েছি যে এই বৈঠকটি ২১শে নভেম্বর, শুক্রবার, ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত হবে। পরে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে!"

এই ঘোষণার পরই নবনির্বাচিত মেয়রের মুখপাত্র ডোরা পেকেক একটি বিবৃতির মাধ্যমে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, "প্রচলিত রীতি মেনেই নবনির্বাচিত মেয়র ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা করছেন। নিউ ইয়র্কবাসীর জননিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সুরক্ষা এবং যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তারা তাঁকে ভোট দিয়েছেন, সেই বিষয়গুলিই হবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।"

ঐতিহাসিক জয় ও তীব্র বিরোধিতা গত ৪ নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং নিজ দল ডেমোক্রেটিক পার্টির অভিজাত অংশের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও ইতিহাস গড়ে জয়ী হন জোহরান মামদানি। তিনি শুধু নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়রই নন, একই সাথে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে জন্মগ্রহণকারী এবং ১৮৯২ সালের পর থেকে শহরের সবচেয়ে কম বয়সী মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি তিনি শপথ গ্রহণ করবেন।

নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প প্রশাসন মামদানির জয় রুখতে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়েছিল। ট্রাম্প নিজে একাধিকবার হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, মামদানি নির্বাচিত হলে নিউ ইয়র্কের জন্য বরাদ্দকৃত সমস্ত কেন্দ্রীয় তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমনকি শহরে সেনা পাঠানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি।

হুমকি ও সমঝোতার সুর জয়ের পরেই মামদানি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, নিউ ইয়র্কের মানুষের অধিকার রক্ষায় এবং শহরের তহবিল নিশ্চিত করতে তিনি প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামতেও প্রস্তুত। তাঁর এই কড়া বক্তব্যকে ট্রাম্প 'বিপজ্জনক' বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।

তবে বৈঠকের ঘোষণার আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের গলায় কিছুটা নরম সুর শোনা যায়। তিনি বলেন, "তাঁকে (মামদানি) ওয়াশিংটনের প্রতি একটু শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। কারণ সে যদি তা না করে, তাহলে তার সফল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।" এরপরেই তিনি যোগ করেন, "এবং আমি তাকে সফল করতে চাই।" যদিও মুহূর্তের মধ্যে মন্তব্য পরিবর্তন করে তিনি বলেন, তিনি মামদানি নন, বরং নিউ ইয়র্ক সিটিকেই সফল করতে চান।

দুই নেতার এই বৈঠক নিছকই আনুষ্ঠানিকতা, নাকি তীব্র মতবিরোধের পর একটি কার্যকরী সমাধানের পথে এগোনোর চেষ্টা, তার উত্তর সময়ই দেবে। তবে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের নজর এখন হোয়াইট হাউসের দিকে।

Tags: us politics donald trump white house zohoran mamdani new york city republican vs democrat nyc mayor