ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্র জামাইকায় (Jamaica) ক্যাটাগরি ফাইভ হ্যারিকেন (Category Five Hurricane) ‘ম্যালিসা’র ভয়াবহ আঘাতের পর নতুন করে স্বাস্থ্য-সংকট দেখা দিয়েছে। লেপটোস্পাইরোসিস (Leptospirosis) নামক মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এই রোগটি লেপটোস্পাইরা (Leptospira) নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে সৃষ্ট হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিবৃতি ও সংক্রমণের পরিসংখ্যান
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা নিশ্চিত করেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্রিস্টোফার টাফটন (Dr. Christopher Tufton)। তিনি জানান, গত ৩০ অক্টোবর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত জামাইকার মোট ৯ জন নাগরিকের দেহে লেপটোস্পাইরোসিস রোগের সংক্রমণ ‘শনাক্ত’ (Detected) হয়েছে। এছাড়া আরও ২৮ জনকে একই রোগে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “ঝড়ের পর এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার মূল কারণ হলো দূষিত পানি এবং মাটির সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাওয়া।”
হ্যারিকেন ও প্রজনন ক্ষেত্র
বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters) জানিয়েছে, গত ২৮ অক্টোবর জামাইকায় শক্তিশালী হ্যারিকেন ‘ম্যালিসা’ আঘাত হানে। এর ফলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত, ভয়াবহ বন্যা এবং ভূমিধস হয়। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে দেশটির পানি দূষণের মাত্রা প্রবলভাবে বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যার এই দূষিত পানিই লেপটোস্পাইরা ব্যাকটেরিয়ার প্রজনন ক্ষেত্র হয়ে ওঠে।
লেপটোস্পাইরোসিস রোগে ইঁদুরের মতো প্রাণীরা আক্রান্ত হতে পারে। তাদের প্রস্রাবের মাধ্যমে পানি বা মাটিতে এই ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে। এরপর মানুষের ত্বকের কাটা দাগ, চোখ, নাক এবং মুখের ভেতরের অংশের মাধ্যমে তা শরীরে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়।
রোগের লক্ষণ ও ঝুঁকি
এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা এবং পেশিতে ব্যথা। এই লক্ষণগুলো অনেক সময়েই সাধারণ ফ্লু (Flu) ভেবে ভুল করা হয়। কিন্তু রোগটি দ্রুত চিকিৎসা না পেলে ক্রমশ মারাত্মক হয়ে ওঠে এবং কিডনি ফেইলিয়র (Kidney Failure), লিভার সিরোসিস, মেনিনজাইটিস (Meningitis) এবং তীব্র অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের (Internal Hemorrhage) কারণ হতে পারে।
উল্লেখ্য, হ্যারিকেন ম্যালিসার আঘাতে জামাইকার আনুমানিক ১০ বিলিয়ন ডলারের (Billion Dollar) আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এই প্রলয়ংকরী ঝড়ে প্রায় ২ লাখ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও কৃষি খাত ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে। হ্যারিকেন আঘাত হানার পরপরই দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্রিস্টোফার টাফটন কৃষক, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, জরুরি সেবাদানকারী (Emergency Service Providers) এবং বন্যাকবলিত এলাকায় চলাচলকারী ব্যক্তিদের বন্যার পানির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে সতর্ক করেছিলেন।