• জাতীয়
  • ভূমিকম্পে হতাহতদের পাশে সরকার: নিহতদের পরিবার পাবে ২৫ হাজার, আহতদের চিকিৎসা সহায়তা; খোলা হলো ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স সেন্টার’

ভূমিকম্পে হতাহতদের পাশে সরকার: নিহতদের পরিবার পাবে ২৫ হাজার, আহতদের চিকিৎসা সহায়তা; খোলা হলো ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স সেন্টার’

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
ভূমিকম্পে হতাহতদের পাশে সরকার: নিহতদের পরিবার পাবে ২৫ হাজার, আহতদের চিকিৎসা সহায়তা; খোলা হলো ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স সেন্টার’

ঢাকা, নরসিংদী ও গাজীপুরসহ ৫ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু ও ৪৬১ জন আহতের সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ; জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত ‘ফান্ড’ বিতরণের নির্দেশ

সাম্প্রতিক শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবার এবং যারা আহত হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন, তাদের প্রত্যেকের জন্য তাৎক্ষণিক Financial Aid বা আর্থিক সহায়তা বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

শনিবার (২২ নভেম্বর) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন স্বাক্ষরিত এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

সরকারি পরিসংখ্যান: কোথায় কত প্রাণহানি?

মন্ত্রণালয়ের Official Data বা দাপ্তরিক তথ্যমতে, শুক্রবারের (২১ নভেম্বর) ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী ও মাগুরা—এই পাঁচ জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১০ জন নিহতের এবং ৪৬১ জন আহতের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

জেলাভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্রে দেখা যায়:

নরসিংদী: ভূমিকম্পের Epicenter বা উৎপত্তিস্থল সংলগ্ন এই জেলায় সর্বোচ্চ ৫ জন নিহত এবং ১১০ জন আহত হয়েছেন।

ঢাকা: রাজধানীতে প্রাণ হারিয়েছেন ৪ জন, আহত হয়েছেন ৫৯ জন।

নারায়ণগঞ্জ: এখানে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১৮ জন।

গাজীপুর: প্রাণহানি না থাকলেও আতঙ্কে ও হুড়োহুড়িতে ২৫২ জন আহত হয়েছেন, যা আহতের সংখ্যায় সর্বোচ্চ।

মাগুরা: দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও কম্পন অনুভূত হয়েছে, সেখানে আহত হয়েছেন ২২ জন।

চালু হলো ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স সেন্টার’

দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে একটি Emergency Response Center বা জরুরি সাড়াদান কেন্দ্র চালু করেছে। শুক্রবার ভূমিকম্পের পরপরই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে এই কন্ট্রোল রুম খোলা হয়।

যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে বা তথ্য জানাতে সর্বসাধারণের জন্য কেন্দ্রের টেলিফোন নম্বরটি হলো: ০২৫৮৮১১৬৫১। এই কেন্দ্র থেকে দেশের সব জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

শনিবার সন্ধ্যায় ফের কাঁপল দেশ: বাড়ছে আতঙ্ক

শুক্রবার ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী কম্পনের রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান। সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিটে অনুভূত এই কম্পনের মাত্রা মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর তথ্যমতে ছিল ৪ দশমিক ৩।

এই দফার কম্পনের Epicenter ছিল নরসিংদী থেকে ১১ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং এর উৎপত্তি ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। তবে ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৭। সন্ধ্যায় অনুভূত এই কম্পনে নতুন করে কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া না গেলেও জনমনে Panic বা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এর আগে শনিবার সকালেও (১০টা ৩৬ মিনিট) নরসিংদীর পলাশ এলাকায় ৩.৩ মাত্রার একটি মৃদু কম্পন বা Mild Tremor অনুভূত হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নরসিংদীর মাধবদী অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ প্লেটের এই নড়াচড়া এবং পরপর কয়েকটি Aftershock বা অনুকম্পন বড় কোনো দুর্যোগের ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে আরও গভীর গবেষণার প্রয়োজন। তবে আপাতত সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

Tags: disaster management earthquake bangladesh seismic activity narsingdi tremor dhaka risk usgs report government aid casualty update emergency hotline financial support