• রাজনীতি
  • জোটের আসন বণ্টন নিয়ে বিএনপির কৌশলগত নীরবতা, শরিকদের মধ্যে উদ্বেগ; উচ্চকক্ষ বা অন্য মূল্যায়নের ইঙ্গিত

জোটের আসন বণ্টন নিয়ে বিএনপির কৌশলগত নীরবতা, শরিকদের মধ্যে উদ্বেগ; উচ্চকক্ষ বা অন্য মূল্যায়নের ইঙ্গিত

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
জোটের আসন বণ্টন নিয়ে বিএনপির কৌশলগত নীরবতা, শরিকদের মধ্যে উদ্বেগ; উচ্চকক্ষ বা অন্য মূল্যায়নের ইঙ্গিত

২৩৭ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেও ৬৩টি আসন ফাঁকা রেখেছে বিএনপি। যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের ১৬৮ জন প্রার্থীর তালিকা জমা, এখন সবাই তাকিয়ে তারেক রহমানের বৈঠকের দিকে।

জোটের আসন বণ্টনে ভিন্ন চিন্তাভাবনা: অপেক্ষার প্রহর গুনছেন শরিকরা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের অংশীদারদের সঙ্গে আসন বণ্টনের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত করেনি বিএনপি। যদিও গত ৩ নভেম্বর দল ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে, বাকি ৬৩টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে। এই ফাঁকা আসনগুলো নিয়েই মূলত জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে এক ধরনের দ্বিধা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। জোটের প্রধান মিত্রদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা শেষ হলেও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় প্রস্তুতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের, যেমন মহাসচিবসহ অন্যদের সঙ্গে ইতিমধ্যে জোটের শরিকরা দফায় দফায় বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। তবে দলের পক্ষ থেকে জোটের নেতাদের জানানো হয়েছে যে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দ্রুত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের মিত্ররা এখন ভার্চুয়ালি তাঁর সঙ্গে একটি বৈঠকের অপেক্ষায় রয়েছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকের পরই শরিকরা কে কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে এবার আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে বিএনপির কৌশলে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন বা 'স্ট্র্যাটেজিক শিফট' (Strategic Shift) লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, মিত্রদের জন্য বরাদ্দকৃত আসনের সংখ্যা এবার সীমিত করা হতে পারে। এর পরিবর্তে, ক্ষমতায় গেলে তাদের সংসদের উচ্চকক্ষ (Upper House) বা সরকারের অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে মূল্যায়ন করার 'কম্পেনসেশন মডেল' (Compensation Model) নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে বিএনপি নেতৃত্ব।

প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায় শরিকদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও ফাঁকা ৬৩টি আসনে জোট বা দলের পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। এই নীরবতার কারণে জোটের শরিকরা চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। তাঁরা প্রত্যাশিত আসনগুলোতে গণসংযোগ চালিয়ে গেলেও বিএনপির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত বার্তা না পাওয়ায় পূর্ণ উদ্যমে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে পারছেন না।

একইসঙ্গে, যে আসনগুলো জোটকে দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারাও সমানতালে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে এসব আসনে দলীয় না জোট থেকে প্রার্থী করা হবে, তা নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে রয়েছেন।

জমা পড়েছে ১৬৮ প্রার্থীর তালিকা, তবে চূড়ান্ত আলোচনা বাকি

যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের নিয়ে একযোগে নির্বাচন ও সরকার গঠনের অঙ্গীকার রয়েছে বিএনপির। নির্বাচন সামনে রেখে আসন বণ্টন বা সমঝোতা প্রশ্নে বিএনপির নির্দেশনা অনুযায়ী শরিকরা এরই মধ্যে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা জমা দিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই শরিক দলগুলো বিএনপির কাছে মোট ১৬৮ জন প্রার্থীর একটি তালিকা জমা দিয়েছে।

জমা দেওয়া তালিকা (দল ও প্রার্থী সংখ্যা):

গণতন্ত্র মঞ্চ (রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ছাড়া বাকি পাঁচ দল): ৪০ জন।

১২ দলীয় জোট: ২১ জন।

গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য: ১৯ জন।

গণঅধিকার পরিষদ: ২৫ জন।

গণফোরাম: ১৬ জন।

এলডিপি: ১৩ জন।

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট: ৯ জন।

এনডিএম: ১০ জন।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি): পাঁচজন।

বাংলাদেশ লেবার পার্টি: ছয়জন।

বাংলাদেশ পিপলস পার্টি (বিপিপি): চারজন।

গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম জানিয়েছেন, আসন সমঝোতার বিষয়টি এখনও আলোচনার স্তরে রয়েছে এবং দ্রুতই তারেক রহমানের সঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চের ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান জানিয়েছেন, বিএনপির সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চলছে এবং অন্যান্য দল থেকেও জোট গঠনের প্রস্তাব পেয়েছেন তাঁরা। তিনি আশা করেন, নির্বাচনের 'তপশিলের' (Election Schedule) পরই তাঁরা এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। উল্লেখ্য, তালিকা জমা নেওয়ার পর শরিকদের কারও সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আসন বণ্টন নিয়ে বসেনি বিএনপি।

Tags: tarique rahman bnp upper house seat sharing coalition election 2024 jumgopot andolon shorik candidate list democracy platform strategic shift