একটি ভালো নির্বাচন (Good Election) আয়োজনের জন্য সমাজের সর্বস্তরের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দেশীয় ৪০টি পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক সংলাপে তিনি এই আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি পর্যবেক্ষকদের নিরপেক্ষতা (Impartiality) এবং রাজনীতিতে জড়িয়ে না পড়ার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তাও দিয়েছেন।
লক্ষ্য একটিই: জাতির জন্য ‘ক্রেডিবল ইলেকশন’
সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য একটাই—জাতিকে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া। অতীতে ঘটে যাওয়া ভুল-ভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে কমিশন এখন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায়। তাঁর কথায়, "আমাদের এজেন্ডা একটাই, একটি ক্রেডিবল ইলেকশন (Credible Election) জাতিকে উপহার দেওয়া। ভালো নির্বাচন আয়োজন আমাদের দায়িত্ব। আর এই দায়িত্ব পালনের জন্য সবার সহযোগিতা লাগবে।"
তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচনে কমিশনের একটি অফিশিয়াল মেকানিজম (Official Mechanism) থাকবে। তবে, তার বাইরেও পর্যবেক্ষকদের চোখ দিয়ে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটিকে দেখতে চায় কমিশন।
পর্যবেক্ষকদের সতর্কবার্তা: রাজনীতি নয়, নজর দিন অনিয়মে
পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর দায়িত্ব ও সততা প্রসঙ্গে সিইসি কঠোর অবস্থানে গিয়ে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রধান দায়িত্ব হবে ভোটের অনিয়মগুলো তুলে ধরা, কোনোভাবেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া নয়। তিনি সরাসরি বলেন, "পর্যবেক্ষকদের চোখ দুষ্টু হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।"
সিইসি মনে করিয়ে দেন যে বাংলাদেশিরা অত্যন্ত রাজনীতি সচেতন (Politically Conscious)। যদি পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন, তবে পুরো প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই যাদের নিয়োগ দেওয়া হবে, তারা কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছেন কি না, সে বিষয়টি সংস্থাগুলোকে অবশ্যই ভালোভাবে যাচাই (Check) করে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
এছাড়া, নতুন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব তাদের লোকবলকে যথাযথ প্রশিক্ষণ (Training) দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি সতর্ক করেন যে তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সুনাম ক্ষুণ্ন হবে।
স্বচ্ছতা ও উচ্চ ‘ভোটার টার্ন আউট’-এর প্রত্যাশা
এই সংলাপে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে উচ্চাশা প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বচ্ছ নির্বাচন হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ জাতীয় নির্বাচন। তাঁর আশা, এবারের নির্বাচনে ভোটার টার্ন আউট (Voter Turnout) অনেক বেশি হবে।
তিনি অতীতকে সামনে না এনে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে কমিশনের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। নির্বাচন কমিশনার আরও স্পষ্ট করেন যে, কোনো অবস্থাতেই পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ (Partial Behavior) করা যাবে না। এর ব্যত্যয় ঘটলে ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে সমস্যা হতে পারে।