• জাতীয়
  • ‘ঘুষ-দুর্নীতি’র জালে ঢাকা উত্তরের প্রশাসক? অনুসন্ধানে নামল দুদক, মিলল গাবতলী হাটের ‘অস্বচ্ছতার’ প্রমাণ!

‘ঘুষ-দুর্নীতি’র জালে ঢাকা উত্তরের প্রশাসক? অনুসন্ধানে নামল দুদক, মিলল গাবতলী হাটের ‘অস্বচ্ছতার’ প্রমাণ!

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
‘ঘুষ-দুর্নীতি’র জালে ঢাকা উত্তরের প্রশাসক? অনুসন্ধানে নামল দুদক, মিলল গাবতলী হাটের ‘অস্বচ্ছতার’ প্রমাণ!

ক্ষমতার অপব্যবহার ও বড় অংকের রাজস্ব ক্ষতির গুরুতর অভিযোগে ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন; কী বলছেন অভিযুক্ত প্রশাসক?

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (DNCC) সর্বোচ্চ পদে বসে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং ঘুষ গ্রহণের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে খোদ প্রশাসকের বিরুদ্ধেই। এবার সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (ACC)। ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় তদারকি এই সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুদকের ‘দৈনিক ও সাম্প্রতিক অভিযোগ সেল’-এর পরিচালক ঈশিতা রনি স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই অনুসন্ধানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযোগটি নিবিড় তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহাপরিচালকের (তদন্ত–১) দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

অনুসন্ধানকে স্বাগত জানালেন প্রশাসক

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ এবং দুদকের অনুসন্ধান প্রক্রিয়াকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। অভিযোগের বিষয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আমরা দুদককে সব ধরনের সহযোগিতা (Cooperation) করব। আমরা মনে করি, পাবলিক অফিসে বসা প্রত্যেক মানুষেরই স্বচ্ছতা (Transparency) এবং দায়বদ্ধতা থাকা প্রয়োজন। অভিযোগের তদন্ত স্বচ্ছভাবে হোক—এটা আমরাও চাই।”

গাবতলী পশুর হাট ও রাজস্ব ক্ষতির ‘অস্বচ্ছ’ সমীকরণ

মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর মূলত গাবতলী গবাদি পশুর হাটের ইজারা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে। গত এপ্রিলে এই হাটের ইজারা দরপত্র বা ‘Tender’ বাতিলের ঘটনায় বড় ধরণের অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জন্য গাবতলী হাটের ইজারা দরপত্রে সর্বোচ্চ দর উঠেছিল প্রায় ২২ কোটি টাকা, যা সরকার নির্ধারিত সরকারি দরের (১৪.৬১ কোটি টাকা) চেয়ে অনেক বেশি ছিল। নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ দরদাতাকেই ইজারা দেয়ার সুপারিশ করেছিল মূল্যায়ন কমিটি। কিন্তু অদ্ভুত এক যুক্তিতে সেই সুপারিশ বাতিল করে ‘খাস আদায়’ (Direct Collection)-এর সিদ্ধান্ত নেয় ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ।

দরপত্র বাতিলের যুক্তি হিসেবে তখন বলা হয়েছিল, ‘বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি’ (BPPA)-এর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। তবে দুদকের বিশেষজ্ঞ দল মত দিয়েছে যে, পশুর হাট ইজারা মূলত সরকারি ক্রয় নীতিমালার (Public Procurement Rules) আওতায় পড়ে না, তাই ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি দেয়ার কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, এই ‘অস্বচ্ছ’ প্রক্রিয়ায় দরপত্র বাতিল করে খাস আদায়ের সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের বড় অঙ্কের ‘Revenue Loss’ বা রাজস্ব আয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল দুদক টিম ডিএনসিসি কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রশাসক ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জব্দ করে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও এজাজের দায়িত্ব গ্রহণ

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় রদবদল আসে। আত্মগোপনে চলে যান ঢাকা উত্তরের তৎকালীন নির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম, যাকে পরবর্তীতে মহাখালী ডিওএইচএস থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯ আগস্ট দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

মেয়রদের অপসারণের পর প্রশাসনে গতি আনতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান মোহাম্মদ এজাজ। তিনি মূলত বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার’ (RDRC)-এর চেয়ারম্যান এবং নদী গবেষণা ও নগর উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সরকার বিভাগ তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল।

এখন দেখার বিষয়, দুদকের এই অনুসন্ধানে ডিএনসিসির প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন কোনো তথ্য বেরিয়ে আসে কি না।

Tags: bangladesh news acc investigation dncc corruption mohammad ejaz gabtoli hat tender irregularity revenue loss anti corruption city corporation public procurement