সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন ভূমিকম্পে (Earthquake) আবারও কেঁপে উঠলো বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে রাজধানী ঢাকা, নরসিংদী, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩ দশমিক ৬ মাত্রার (Magnitude 3.6) একটি মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়। সর্বশেষ এই কম্পনে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের (Bangladesh Meteorological Department - BMD) তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল (Epicenter) ছিল নরসিংদী জেলার ঘোড়াশাল এলাকায়।
'আফটারশক' নিয়ে আবহাওয়াবিদদের বার্তা
সাম্প্রতিক এই ভূকম্পন নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। আবহাওয়াবিদ রুবায়েত কবির বলেন, এই কম্পনটি সাম্প্রতিক বড় ভূমিকম্পের একটি 'আফটারশক' (Aftershock)। তাঁর ভাষায়, "এ নিয়ে দুঃশ্চিন্তার কিছু নেই।"
তবে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে দেশে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার একাধিক ভূকম্পন অনুভূত হওয়ায় জনমনে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
গত এক সপ্তাহের কম্পনচিত্র
দেশের অভ্যন্তরে গত এক সপ্তাহে একাধিকবার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
বুধবার (২৬ নভেম্বর): রাত সাড়ে ৩টার দিকে সিলেটেও মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর): নরসিংদী জেলায় উৎপত্তি হওয়া ৫ দশমিক ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ঢাকাসহ দেশের তিন জেলায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু এবং চার শতাধিক মানুষের আহত হওয়ার কারণ হয়। এটিকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
শনিবার (২২ নভেম্বর): পরদিন সকালে একবার এবং সন্ধ্যায় অল্প ব্যবধানে আরও দু'বার ভূমিকম্প অনুভূত হয় ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকায়। এই তিনটি কম্পনের দুটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীতে এবং একটি ছিল রাজধানীর বাড্ডায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর ব্যাখ্যা করে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বড় ভূমিকম্পের পর তার জের হিসেবে এই ধরনের আফটারশক বা ছোট কম্পনগুলো একটি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে ঘনঘন ভূমিকম্পের এই Seismic Activity নিয়ে বিশেষজ্ঞরা নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছেন। দেশের Disaster Management এবং Earthquake Preparedness নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।