আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তর্বর্তী সরকারের (Interim Government) অনেকেই অংশগ্রহণ করবেন—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়ার (Asif Mahmud Sajeeb Bhuiyan) এমন মন্তব্যের পর থেকেই জনমনে তীব্র কৌতূহল ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) তিনি নিজেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আরও বলেন, "আমরা দুই ছাত্র উপদেষ্টা ছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যারা যুক্ত রয়েছেন এমন আরও অনেকেই নির্বাচন করবেন এমন কথাও আছে।"
এই ঘোষণার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (Social Media) ও বিভিন্ন মহলে এই সরকারের আর কে কে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন, তা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলতে শুরু করে।
প্রেস সচিবের 'না'-বার্তা
চলমান এই জল্পনা-কল্পনার পরিপ্রেক্ষিতে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের (Chief Advisor Professor Dr. Muhammad Yunus) প্রেস সচিব শফিকুল আলম (Shafiqul Alam) নিজের যাচাইকৃত (Verified) ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
তিনি তাঁর পোস্টে লেখেন, "যারা জিজ্ঞাসা করছেন তাদের জন্য জানিয়ে রাখি, আমি সংসদীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি না। রাজনীতিতে আসার কোনো পরিকল্পনাও আমার নেই।"
তাঁর এই বার্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সরকারি পদ থেকে নির্বাচন করার সম্ভাবনা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের একটি বড় অংশের অবসান ঘটালেন।
শফিকুল আলমের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও অবস্থান
শফিকুল আলম দেশের একজন প্রথিতযশা সাংবাদিক এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি-এর (Agence France-Presse - AFP) বাংলাদেশ ব্যুরো প্রধান হিসেবে দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালন করেছেন।
উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনের পর তিনি এএফপি-এর পদ ছেড়ে অন্তর্বর্তী সরকারে যোগ দেন। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে তাঁকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি একজন সিনিয়র সচিবের মর্যাদায় (Status of Senior Secretary) এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর মেয়াদ প্রধান উপদেষ্টার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অথবা যতদিন তিনি এই দায়িত্ব পালনের যোগ্য থাকবেন, ততদিন স্থায়ী হবে। তাঁর মতো একজন পেশাদার সাংবাদিকের এই ধরনের Political Post নিয়ে জল্পনা শুরু হলেও, তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা Professional Ethics-এর প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতাকেই তুলে ধরল।