স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও তীব্র হতাশা: ৭৮ জন প্রবাসীর সর্বস্বান্ত হওয়ার চিত্র
দীর্ঘদিন বিভিন্ন কারণে আটক থাকার পর আউট পাস (Out Pass) নিয়ে দেশে ফেরা ৭৮ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের লাগেজ কেটে মূল্যবান মালামাল চুরির এক নজিরবিহীন ঘটনায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সঞ্চার হয়েছে। গত ২৭ নভেম্বর, সৌদি আরব থেকে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের (Ethiopian Airlines) ET-618 ফ্লাইটে আদ্দিস আবাবা হয়ে ঢাকায় পৌঁছান এই প্রবাসীরা। ইমিগ্রেশনসহ সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগমনী এক নম্বর বেল্ট এলাকায় নিজেদের ব্যাগেজ (Baggage) সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা দেখেন— অধিকাংশ ব্যাগই ধারালো কিছু দিয়ে কাটা এবং ভেতরের জিনিসপত্র অনুপস্থিত। বিদেশ বিভুঁইয়ে কঠিন জীবন শেষে দেশে ফিরেও শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে ক্ষুব্ধ ও হতাশ এই শ্রমিকরা।
ক্ষোভের বিস্ফোরণ: ভিডিও রেকর্ডিং ও কর্মীদের ওপর চড়াও
অভাবনীয় এই ক্ষতি দেখে যাত্রীরা সঙ্গে সঙ্গেই ভিডিও রেকর্ডিং (Video Recording) করতে শুরু করেন এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের কর্মীদের ওপর চড়াও হয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাদের অভিযোগ, সৌদি ইমিগ্রেশনের ব্যবস্থাপনায় এলেও লাগেজগুলো অনিরাপদ ছিল। বিদেশে সবকিছু হারিয়ে দেশে ফিরেও শেষ সম্বলটুকু থেকে বঞ্চিত হলেন তারা, যার দায়ভার নিতে নারাজ এয়ারলাইন্স।
বেবিচকের ব্যাখ্যা: সন্দেহের তীর সৌদি ইমিগ্রেশন ও এজেন্টদের দিকে
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক - CAAB) একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বেবিচক জানায়, সম্প্রতি এরকম লাগেজ কাটা ও মালামাল হারানোর ঘটনা বারবার ঘটছে এবং বিষয়টি তারা ইতোমধ্যে সৌদি কর্তৃপক্ষকে (Saudi Authority) জানিয়েছে।
এয়ারলাইন্সের ব্যাখ্যা থেকে বেবিচককে জানানো হয়েছে, আউট পাস যাত্রীদের জন্য মাথাপিছু গড়ে ১৫ কেজি হিসেবে সব মালামাল একত্রে বুক (Book) করা হয়। এটি একটি টেকনিক্যাল (Technical) জটিলতা, যার ফলে নির্দিষ্টভাবে জানা যায় না কোন ব্যাগে কার মালামাল ছিল। আরও বড় সমস্যা হলো, সৌদি ইমিগ্রেশন পুলিশ (Immigration Police) অনেক মালামাল জব্দ করে, কিন্তু তার কোনো তালিকা বা ম্যানিফেস্ট (Manifest) এয়ারলাইন্সকে সরবরাহ করে না। ফলে দেশে আসার পর এই ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
শাহজালালের নিরাপত্তা বনাম আন্তর্জাতিক করিডোরের দুর্বলতা
বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাগেজ হ্যান্ডলিং (Luggage Handling) এলাকাগুলো বর্তমানে অত্যাধুনিক সিসিটিভির (CCTV) আওতায় আসায় সাধারণ যাত্রীদের ব্যাগেজ চুরির ঘটনা অনেকটাই কমে এসেছে। তবে, আউট পাস যাত্রীদের ব্যাগেজে মালামাল চুরি বা হারানোর অভিযোগ এখনো উদ্বেগজনকভাবে বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
এই প্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই ধরনের চুরি ঢাকা বিমানবন্দরে নয়, বরং ব্যাগগুলো সৌদিতে অবস্থানকালে কোনো ব্যক্তি বা এজেন্সির (Agency) মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বা চুরি হতে পারে। বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পথে আটক থাকা শ্রমিকদের শেষ সম্বলটুকুও চুরি হয়ে যাওয়ায় দেশের জুডিশিয়ারি সার্ভিস (Judiciary Service), শ্রম মন্ত্রণালয় এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের (Airport Authority) পক্ষ থেকে দ্রুত ও কঠোর তদন্তের (Investigation) দাবি উঠেছে।