• রাজনীতি
  • ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: 'ধানের শীষের' অপ্রতিরোধ্য 'গণজোয়ার' সৃষ্টিতে বিএনপির মাস্টারপ্ল্যান, মাঠে ২৩৬ প্রার্থী

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: 'ধানের শীষের' অপ্রতিরোধ্য 'গণজোয়ার' সৃষ্টিতে বিএনপির মাস্টারপ্ল্যান, মাঠে ২৩৬ প্রার্থী

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: 'ধানের শীষের' অপ্রতিরোধ্য 'গণজোয়ার' সৃষ্টিতে বিএনপির মাস্টারপ্ল্যান, মাঠে ২৩৬ প্রার্থী

কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত কর্মী সক্রিয় করে ৩১ দফা রোডম্যাপ জনগণের কাছে পৌঁছানোই দলটির হাইকমান্ডের কোর স্ট্র্যাটেজি।

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে (Thirteenth Parliament Election) সামনে রেখে দেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি (BNP) তাদের সাংগঠনিক তৎপরতায় এনেছে নতুন মাত্রা। এরই মধ্যে দলটি দেশের মোট ২৩৬টি নির্বাচনী এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণার পরপরই বদলে গেছে নির্বাচনী রাজনীতির দৃশ্যপট, যেখানে 'ধানের শীষ' প্রতীকের পক্ষে অপ্রতিরোধ্য 'গণজোয়ার' (Mass Wave) সৃষ্টি করাই এখন দলটির হাইকমান্ডের (High Command) মূল লক্ষ্য। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচন ঘিরে বিএনপি এখন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মাঠপর্যায়ে নিবিড় জনসংযোগ: এক নতুন দৃশ্যপট

ধানের শীষের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন জনপদ রাত-দিন চষে বেড়াচ্ছেন। তারা খেত-খামারে, টং দোকানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। নির্বাচিত হলে জনকল্যাণে করণীয় বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা। দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, এই নিবিড় জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারই এখন তাদের প্রধান হাতিয়ার।

এই লক্ষ্য অর্জনে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় করে তুলতে 'দেশ গড়ার পরিকল্পনা' শীর্ষক ছয় দিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি, যা ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হবে।

কেন্দ্রীয় লক্ষ্য: 'গণজোয়ার' এবং সরকার গঠন

বিএনপির হাইকমান্ডের মূল লক্ষ্য হলো—দেশজুড়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের পক্ষে এমন একটি নজিরবিহীন জনসমর্থন তৈরি করা, যা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনে সহায়তা করবে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও নতুন কর্মসূচির সভাপতি রুহুল কবির রিজভী বলেন, "নির্বাচন মানেই লড়াই এবং প্রতিযোগিতা। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ঐতিহাসিক গণজোয়ার তৈরি করতে। অতীতেও স্বৈরাচার পতনের পর ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। আমাদের বিশ্বাস, এবারের অভ্যুত্থান-পরবর্তী তরুণ প্রজন্ম ধানের শীষের পক্ষে তাদের মতামত জানাবে।" তিনি মনে করেন, বিগত বছরগুলোতে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দলটি এখন ঘুরে দাঁড়ানোর এই চেষ্টায় জনসম্পৃক্ততাকে প্রধান হাতিয়ার করেছে।

কৌশলগত পরিবর্তন ও জনমুখী ‘রোডম্যাপ

দায়িত্বশীল নেতারা জানান, মূলত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা বা রোডম্যাপ (Roadmap) জনগণের কাছে আরও সহজ ও সুন্দরভাবে তুলে দেওয়াই এখন বিএনপির কোর স্ট্র্যাটেজি (Core Strategy)। এই উপলব্ধি থেকেই দলটি তার রাজনৈতিক কৌশল (Political Strategy) পরিবর্তন করেছে। এখনকার মূল মনোযোগ শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ না রেখে তা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জনগণের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এমন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করা হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে তিনটি অঙ্গসহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে 'তারুণ্যের সমাবেশ' সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এরই মধ্যে যেসব প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন, বিশেষ করে কৃষি, শিক্ষা, ফ্যামিলি কার্ড (Family Card), যুবকদের কর্মসংস্থান (Job Creation) ও স্বাস্থ্যসেবাসহ অন্যান্য খাতের বিষয়ে করণীয় নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য নতুন কর্মসূচিতে উঠে আসবে।

৬ দিনের বিশেষ কর্মসূচি: প্রশিক্ষণ ও অঙ্গীকার

বিএনপি ও কয়েকটি অঙ্গসহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ঘোষিত এই ছয় দিনের কর্মসূচি মূলত 'প্রশিক্ষণমূলক' (Training-based) এবং ঘরোয়াভাবে পালিত হবে। আগামী ৭ ডিসেম্বর থেকে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শুরু হয়ে এই কর্মসূচি চলবে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

৭ ও ৮ ডিসেম্বর: জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

৯ ডিসেম্বর: জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ও জাতীয়তাবাদী ওলামা দল।

১০ ডিসেম্বর: জাতীয়তাবাদী যুবদল ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দল।

১১ ও ১৩ ডিসেম্বর: বিএনপির উদ্যোগে কর্মসূচি পালন হবে।

এসব কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি (Virtually) সংযুক্ত হবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান নিশ্চিত করেছেন, এই কর্মসূচিগুলোতে ৩১ দফার মধ্যে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ৮টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে আরও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

সাংগঠনিক সংহতি ও ঐক্যে জোর: দলে ফিরছেন বহিষ্কৃতরা

গণজোয়ার সৃষ্টির পূর্বশর্ত হিসেবে বিএনপি তার সাংগঠনিক দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে সচেষ্ট হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝিমিয়ে থাকা কমিটিগুলো পুনর্গঠন করে বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তরুণ ও সক্রিয় কর্মীদের নেতৃত্বে আনা হচ্ছে।

নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে গতি আনতে বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের দলে ফেরানো হচ্ছে। গত কয়েকদিনে তিনশরও বেশি প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কৃত কর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। রুহুল কবির রিজভী নিশ্চিত করেছেন, "অতীতে নানা কারণে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কৃত তিনশ জনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে, যাতে তারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হতে পারেন।" পাশাপাশি বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৃহত্তর ঐক্য (Political Alliance) গড়ে তুলেছে। এই সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করবে বলে মনে করে দলটি।

প্রযুক্তিনির্ভর প্রচার ও হাইকমান্ডের দৃঢ় প্রত্যয়

বিএনপির সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ‘মুখোমুখি’ জনসংযোগের ওপর জোর দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (Social Media) ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে (Digital Platform) দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে ব্যাপক প্রচার চলছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য বদরুল আলম চৌধুরী শিপুল দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, "৫ আগস্টের পর বিএনপি জনগণের মাঝে ছুটে গেছে। এরই মধ্যে ধানের শীষের জোয়ার শুরু হয়ে গেছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ৩১ দফা সামনে রেখে জনগণের বিপুল সমর্থনে বিএনপি আবারও রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাবে।"

Tags: political strategy tarique rahman digital platform political alliance job creation bnp election family card national unity dhane shish candidate list mass wave state reform core strategy