থানা হেফাজতে 'হেনস্তা' ও অর্থের দাবি
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মঈনের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে থানা হেফাজতে রেখে অশালীন ব্যবহার এবং তাঁর বাবার কাছে চাঁদাবাজির (Extortion) মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরিবার ও ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, এসআই মঈন প্রথমে তরুণীর বাবার অটোরিকশা আটক করে 'তেল খরচ' বাবদ ৩ হাজার টাকা আদায় করেন এবং পরে তরুণীকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন।
ঘটনাক্রম ও আটক
জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর রুহিয়া থানার রাজাগাও ইউনিয়নের এক তরুণের সঙ্গে আটোয়ারী উপজেলার ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবারের অমতে বিয়ে হয়। এরপর এই তরুণ-তরুণী দুজনে পালিয়ে যান। তরুণের বাবা তরুণীর বাবার নামে আটোয়ারী থানায় লিখিত অভিযোগ (Written Complaint) দায়ের করেন।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আটোয়ারী থানার এসআই মঈন ২১ অক্টোবর তরুণীর বাড়িতে অভিযান চালান। তরুণ-তরুণীর খোঁজ না পেয়ে তিনি তরুণীর বাবাকে থানায় দেখা করতে বলেন। ২২ অক্টোবর তরুণীর বাবা থানায় গেলে এসআই মঈন তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন এবং 'ফোর্স নিয়ে যাওয়ার তেল খরচ' বাবদ ৩ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তিনি তরুণীর বাবার অটোরিকশার চাবি কেড়ে নেন। পরে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার মধ্যস্থতায় ৩ হাজার টাকা দিয়ে অটোরিকশাটি ছাড়িয়ে নেন তরুণীর বাবা।
এর কিছুদিন পর পুলিশ তরুণ-তরুণীর সন্ধান পায় এবং ঠাকুরগাঁও থেকে তাঁদের আটক করে আটোয়ারী থানায় নিয়ে আসে।
হাজতে অশালীন ব্যবহার ও চাঁদা দাবি
ভুক্তভোগী তরুণী জানান, ঠাকুরগাঁও থেকে আসার পথে এসআই মঈন তাঁর স্বামীকে ছেড়ে দেন, কিন্তু তাঁকে থানা হেফাজতে নিয়ে আসেন। তরুণীর অভিযোগ, "তাকে ছেড়ে দেওয়ার পর এসআই মঈন আমার সঙ্গে খুব খারাপ ভাষায় কথা বলা শুরু করে। বিভিন্ন অশ্রাব্য ভাষায় আমাকে গালিগালাজ করেন তিনি।" এক পর্যায়ে এসআই মঈন অন্য পুলিশ সদস্যদের চলে যেতে বলেন।
তরুণী আরও জানান, তাঁকে এক রাত একদিন হাজতে (Police Custody) রাখা হয়। হাজতে থাকা অবস্থায় বাইরে থেকে বিভিন্ন সময় তাঁকে খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করতেন এসআই মঈন। তিনি অসহায় অবস্থায় সবকিছু নীরবে সহ্য করেছেন বলে উল্লেখ করেন।
তরুণীকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে গেলে এসআই মঈন তরুণীর বাবার কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। তরুণীর বাবা বলেন, "আমরা অনেক অনুরোধ করেছি, কিন্তু কোনোভাবেই টাকা ছাড়া মেয়েকে ছেড়ে দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।" পরে পরিচিত একজন সাংবাদিকের অনুরোধে সন্ধ্যা নাগাদ তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আটোয়ারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মঈন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে যেসব কথা বলছেন সেগুলোর কি কোনো প্রমাণ আছে? আমি এসব ধরনের কোনো কাজ বা কথাবার্তা বলিনি।"
তবে পঞ্চগড় জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন জানান, "আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি অবগত হয়েছি। সঠিক তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা (Departmental Action) গ্রহণ করা হবে।" এই ঘটনাটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার (Law Enforcement Agency) সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার (Abuse of Power) এবং পেশাদারিত্বের অভাবের (Lack of Professionalism) অভিযোগকে সামনে আনল।