দেশের বাজারে সোনার দামে আবারও অস্থিরতা। কয়েকদিনের ব্যবধানে ফের উর্ধ্বমুখী মূল্যবান এই ধাতুর বাজারদর। স্বস্তি উবে গিয়ে আবারও কপালে চিন্তার ভাঁজ ক্রেতাদের। এবার এক লাফে ভরিতে ২ হাজার ৪০৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (BAJUS)। ফলে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেট সোনার ভরি আবারও ২ লাখ ১০ হাজার টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গেল।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, রোববার থেকেই সারা দেশে কার্যকর হবে এই নতুন ‘গোল্ড রেট’ (Gold Rate)। জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ এই সংগঠনটি জানায়, স্থানীয় বাজারে ‘তেজাবি সোনা’ বা পিওর গোল্ডের (Pure Gold) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই ‘প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট’ বা দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
বাজারের ‘রোলার কোস্টার’ ওঠানামা
সোনার বাজার যেন এখন এক অনিশ্চয়তার নাম। গত ২০ নভেম্বর কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল যখন ভরিতে ১ হাজার ৩৫৩ টাকা কমানো হয়। কিন্তু সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই আবারও বড়সড় লাফ। আন্তর্জাতিক বাজার বা ‘গ্লোবাল মার্কেট’-এ সোনার দাম সামান্য বাড়ার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। প্রসঙ্গত, গত ১৭ অক্টোবর দেশের ইতিহাসে সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকায় পৌঁছেছিল, যা এখন পর্যন্ত ‘অলটাইম হাই’ (All-time High) রেকর্ড।
বাজুস সূত্রে জানা গেছে, দেশে বৈধভাবে সোনার আমদানি বা ‘অফিসিয়াল ইমপোর্ট’ খুবই নগণ্য। মূলত যাত্রীদের ব্যাগেজ রুলসের (Baggage Rules) আওতায় বিদেশ থেকে আসা সোনার ওপর ভিত্তি করেই স্থানীয় বাজারের সিংহভাগ চাহিদা মেটানো হয়।
কোন ক্যারেটের কত দাম?
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, কাল রোববার থেকে ক্যারেটভেদে সোনার দামের চিত্রটি হবে নিম্নরূপ:
২২ ক্যারেট (সবচেয়ে ভালো মান): প্রতি ভরির দাম ২ হাজার ৪০৩ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৫৭০ টাকায়। (আগে ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ১৬৭ টাকা)।
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি বিক্রি হবে ২ লাখ ১ হাজার ৬ টাকায়। এ ক্ষেত্রে দাম বেড়েছে ২ হাজার ৩১০ টাকা। (আগে ছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৯৬ টাকা)।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরির নতুন দাম ১ লাখ ৭২ হাজার ২৮৯ টাকা। দাম বেড়েছে ১ হাজার ৯৭১ টাকা। (আগে ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার ৩১৮ টাকা)।
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৬৭৯ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৭ টাকায়। (আগে ছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৪৮ টাকা)।
বিয়ের মৌসুম এবং বছরের শেষলগ্নে এসে সোনার এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের বাজেটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।