নিজেদের জাতীয় সনদ (National Charter) বাস্তবায়ন এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের মতো ৫ দফা দাবিতে খুলনা নগরীর শিববাড়ী মোড়ে অনুষ্ঠিত হলো ৮ দলীয় জোটের বিশাল বিভাগীয় সমাবেশ (Divisional Rally)। এই সমাবেশে ইসলামী ও ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত হয়ে তাদের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন করলেন।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই র্যালি শুরু হয়। সমাবেশের শুরু হওয়ার বহু আগে থেকেই বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা (Activists) মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন, যার ফলে শিববাড়ী মোড়ে এক উৎসবমুখর এবং জনসমাগমের পরিবেশ তৈরি হয়।
খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি (Secretary) অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল নিশ্চিত করেন যে, দুপুর ২টার পর মঞ্চে জোটের জাতীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত হবেন।
মূল দাবি: জাতীয় সনদ ও নির্বাচনের আগে ‘গণভোট’
আট দলীয় এই জোটের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে, তাদের ঘোষিত ৫ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা। এই দফাগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য: ১. দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি জাতীয় সনদ বা চুক্তির বাস্তবায়ন। ২. আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশে একটি গণভোট বা রেফারেন্ডাম আয়োজন করা, যার মাধ্যমে জনগণ তাদের রাজনৈতিক মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে পারবে।
এই দাবিগুলি উত্থাপন করে জোটের নেতারা দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে তাদের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন।
ইসলামী জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক চিত্র
খুলনার এই বিভাগীয় সমাবেশে জোটের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করীম। এই জোটের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ অতিথি এবং বক্তাদের মধ্যে মঞ্চে আসেন:
খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন।
নেজামে ইসলাম পার্টির আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী।
খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদেক হক্কানি।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান।
ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান (Chairman) অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান।
এই ৮ দলীয় সমাবেশকে ইসলামী ধারার রাজনৈতিক দলগুলির বৃহত্তর জোটবদ্ধ হওয়ার এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি (Organizational Strength) প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল।